বাংলা হেডলাইনস খুলনা: বাগেরহাট জেলায় রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রথম মেগা প্রকল্প।
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎ কোম্পানি কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। বহুল আলোচিত এ প্রকল্পের বিদ্যুৎ সরবরাহের সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শেষ না করেই বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছে ভারতীয় কোম্পানি ইএমসি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ব্যাংকে জমা থাকা পারফরমেন্স গ্যারান্টির টাকাও তুলে নিয়েছে তারা। এ কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ দুই বছরেরও বেশি সময় পিছিয়ে গেছে।
তাছাড়া দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া ভারতীয় ওই কোম্পানীর কাছ থেকে কাজ নিয়ে বাংলাদেশের যে ঠিকাদাররা কাজ করছিলেন তারাও পথে বসেছেন।
দেশীয় ছোট ছোট ৪ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকাও মেরে দিয়েছে ভারতীয় ওই কোম্পানীটি।
তবে ভারতীয় কোম্পানি ইএমসি’র জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি চীনা প্রতিষ্ঠান কোম্পানি টিবিইএ কে প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন করে সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
বটিয়াঘাটা কচুবুনিয়ার রিভার ক্রসিং টাওয়ারের চলমান সেই কাজ স্থানীয় শ্রমিকরা মজুরীর বকেয়া টাকা না পেয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার থেকে স্থানীয় শত শত শ্রমিক ও সাপ্লাইয়াররা এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে অবস্থান কর্মসুচি ও মানববন্ধন করেছেন।
বকেয়া টাকা না পেলে এ প্রকল্পের কাজ তারা শুরু করতে দিবে না বলেও মানববন্ধনে বক্তারা বলেন।
পিজিসিবি ও প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকার যে কয়টি লাইন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে, তার মধ্যে একটি খুলনা-মোংলা ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট ট্রান্সমিশন লাইন।
ভারতীয় কোম্পানি ইএমসি ও চীনা কোম্পানীর টিবিইএ’র যৌথ উদ্যোগকে (জেভি) কাজের জন্য নির্বাচিত করে সরকারি সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।
এ জন্য ইএমসি-টিবিইএর সঙ্গে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং মার্কিন মুদ্রায় ৮৫ লাখ ১৬হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার চুক্তি করে পিজিসিবি। চুক্তির আওতায় সঞ্চালন লাইনটির মালপত্র সরবরাহ, প্রয়োজনীয় খনন ও পরীক্ষণ এবং বাস্তবায়নের কাজ করার কথা ভারতীয় কোম্পানি ইএমসি ও চীনা কোম্পানি টিবিইএ’র।
সুত্র জানায়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পিজিসিবি ও ইএমসি-টিবিইএর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী ১৮ মাস, অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুনে সঞ্চালন লাইনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা।
কেন্দ্র থেকে খুলনার হরিনটানা সাবস্টেশন পর্যন্ত লাইনটির দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার। দুই দফা সময়সীমা বাড়িয়ে ২০১৮সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল।
কিন্তু কাজ শেষ না করে ঐ বছরের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায় নির্মাণকাজের নেতৃত্বে থাকা ইএমসি।
পিজিসিবিকে না জানিয়ে ইএমসি তাদের ঢাকা ও খুলনা অফিস বন্ধ করে দেয় এবং তাদের সব কর্মকর্তা প্রতিনিধি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকে নির্মাণাধীন প্রকল্পটির কাজ।