বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর: গাজীপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলার ১৫তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে রোববার সকালে জেলা শহরে শোক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি আইনজীবী সমিতি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
আইনজীবীরা কালোব্যাজ ধারণ করে এতে অংশ নেন। পরে দিবসটি উপলক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গনে বোমা হামলায় শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মৃতি শিখা অনির্বাণ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
স্মৃতিস্তম্ভের জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা জজ আদালত, গাজীপুর জেলা প্রশাসন, জিএমপি ও জেলা পুলিশ বিভাগ, আইনজীবী সহকারী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়।
এসময় বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির আহমাদ, জেলা ও দায়রা জজ মমতাজ বেগম, জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগ সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন বাবুল, বারের সাবেক সাধারন সম্পাদক সুদীপ কুমারসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
এ উপলক্ষে বোমা হামলার দিনের চিত্র উল্লেখ করে আলোকচিত্র চিত্র প্রদর্শনী করা হয়।
এর আগে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৫ সালের এ দিন সকালে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ২ নম্বর হলরুমে জেএমবি সদস্যদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ঘটনাস্থলে চার আইনজীবী, চার বিচারপ্রার্থীসহ হামলাকারী জঙ্গি নিহত হয়। হামলায় আরও অর্ধশতাধিক আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী আহত হন। পরে আহত অবস্থায় আরও একজন আইনজীবী মারা যান।
ঘটনার আজ ১৪ বছরে পার হলেও বিচার শেষ হয়নি। ভুক্তভোগীরা ওই ঘটনায় সকল মামলার রায় এবং রায় হওয়া আসামিদের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির উদ্দিন আহমদ জানান, গাজীপুর ওই ঘটনায় দায়ের করা পাঁচটি মামলার মধ্যে ঢাকায় দ্রুতবিচার (বিশেষ) আদালতে দুইটি মামলার নিষ্পতি হয়েছে।
এতে অভিযুক্ত ১০ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন দ্রুতবিচার আদালত ৪ এর বিচারক। বাকি তিনটি মামলা এখনও গাজীপুর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
গাজীপুর আদালতের জিপি মো. আমজাদ হোসেন বাবুল বলেন, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে আত্মঘাতি বোমা হামলায় ঘটনাস্থলে নিহতরা হলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিম, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা ও অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক অভি।
এ ছাড়াও বিচারপ্রার্থী আব্দুর রউফ, বশির মেম্বার, শামসুল হক ও মর্জিনা বেগম মারা যান।
আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী জেএমবি সদস্য শরিয়ত উল্লাহ ওরফে আসাদুল ইসলামও মারা যান। বোমার স্পিলন্টারে ক্ষত, পঙ্গুত্ব ও গায়ে স্পিলন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন আহতরা।