বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের শস্যভান্ডার খ্যাত চলনবিল এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এতে কৃষকরা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জমির শ্রেণী পরিবর্তনে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী শত শত একর ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে এই পুকুর খনন করেছে।
এ কারণে চলনবিল এলাকার তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষিজমি থেকে বন্যা ও বৃষ্টির পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে এসব এলাকার ভেদুরিয়া বিল, দবিরগঞ্জ, উনুখাঁ, নওগাঁ, মহিষলুটি, মাধাইনগর, সোনাপাতিল, মাধবপুর, শ্রীকৃঞ্চপুর, মাগুড়া-বিনোদ, ঘরগ্রাম, মহিষলুটি নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এসব এলাকার জমির পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় আগাছায় ছেয়ে গেছে। অনেক জমিতে কৃষকরা আগাছা পরিষ্কার করতে হিমশিম খাচ্ছে।
স্থানীয় আদর্শ কৃষকরা বলছেন, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী মাছ চাষের নামে ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খনন করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এই অবৈধভবে পুকুর খনন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানসহ নানা ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে। এতেও ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের কাজ বন্ধ হচ্ছে না।
বছরের দু’টো মৌসুম সরিষা ও বোরো ধান চাষ করা হয় এই বিলাঞ্চলে। এ দু’টি ফসল উৎপাদনের মাধ্যমেই এলাকার কৃষকের সংসার চলে।
তবে সরিষা চাষে কৃষকরা বেশি লাভবান হয়ে থাকে। এ বছর জলাবদ্ধতার কারণেই সরিষা চাষ করতে না পারায় কৃষকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবু হানিফ বলেন, এবার জেলায় ৪৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কম জমিতে সরিষার চাষাবাদ করা হয়েছে।
কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ওইসব এলাকায় বন্যার পানি নামতে বিলম্ব ও অভৈধভাবে পুকুর খননে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।