বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নির্বাচনের উপর হাইকোর্টের স্থিতিবস্থা থাকা সত্বেও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব নেবার চেষ্টা করার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ মালিক-শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরতলির চারমাথা এলাকায় প্রায় এক ঘন্টা উত্তরবঙ্গ মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
এ সময় শুধু মহাসড়কে নয় অন্যান্য আঞ্চলিক সড়কেও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনগণের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, তারা ১৯ সদস্যের নির্বাচিত কমিটি সুষ্ঠভাবে গ্রুপ পরিচালনা করছেন। মেয়াদ থাকার পরও প্রতিপক্ষের ইন্ধনে জেলা প্রশাসন অবৈধভাবে দায়িত্ব নিতে চাইলে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
তিনি আরো জানান, বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ ও হাইকোর্টের স্থিতিবস্থা থাকায় তারা মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন না।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৬ ডিসেম্বর বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের দায়িত্ব নিয়েছেন। একপক্ষ দায়িত্ব বুঝে দিলে অপরপক্ষ দেয়নি।
দায়িত্ব নিতে গেলে তারা কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করেন। শুক্রবার বিকালে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথে মালিক-শ্রমিকদের বৈঠক হবে।
বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সূত্র জানায়, গত ২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন না করতে নির্দেশ দেয়।
প্রতিপক্ষরা এ অবস্থায় নির্বাচন করতে এডিএমকে নিয়োগ দেওয়া সংক্রান্ত একটি ভুয়া আদেশ আনেন। এ ব্যাপারে হাইকোর্টে রিট করলে নির্বাচনের উপর স্থিতিবস্থা দেওয়া হয়।
বিষয়টি জেলা প্রশাসন অবহিত হলেও এডিএম প্রতিপক্ষের ইন্ধনে বার বার মোটর মালিক গ্রুপের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এডিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ লোকবল নিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিতে চারমাথা এলাকায় মোটর মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে আসেন।
এ সময় গ্রুপের সভাপতি শাহ আখতারুজ্জামান ডিউক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ কেউ অফিসে ছিলেন না।
এডিএম দায়িত্ব নিতে আসার খবরে বৃহস্পতিবার বেলা ১ টার দিকে পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে বিপুল সংখ্যক বিক্ষুদ্ধ মালিক ও শ্রমিক চারমাথা এলাকায় গাড়ি রেখে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এতে অন্যান্য আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ চলাচলে মহাসড়ক ও অন্যান্য আঞ্চলিক সড়কগুলোতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তারা রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করেছেন। সেখান থেকে শুক্রবার বিকাল ৩টায় বগুড়া জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনায় বসতে অনুরোধ করা হয়।
কিন্তু হাইকোর্টের স্থিতিবতার ব্যাপারে আগামী মঙ্গলবার তারিখ রয়েছে। তাই ওই তারিখের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন সবকিছু জানার পরও প্রতিপক্ষের সাথে যোগসাজসে নির্বাচিত মোটর মালিক গ্রুপের দায়িত্ব জোড়পূর্বক নিতে চাইছেন। মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাউকে দায়িত্ব দিবেন না।
বগুড়ার এডিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ ও মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে তিনি গত ৬ ডিসেম্বর থেকে মোটর মালিক গ্রুপের দায়িত্ব নিয়েছেন।
বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট মহাসড়ক অবরোধ শেষে মালিক-শ্রমিকরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।