বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বসার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ‘পা কেটে নেওয়ার’ অভিযোগ জুলাই সনদ নিয়ে যারা বিভ্রান্ত করছে, তারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি: বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী

শ্রম বিক্রি করে চলছে লেখাপড়ার খরচ

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪০৩ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস নওগাঁ সংবাদদাতা: আদিবাসী দরিদ্র পরিবারে জন্ম ওদের। তিন ভাইবোনের মধ্যে ভাই সুম চড়ে বড়। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

মেজ বোন শিউলী চড়ে নিয়ামতপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট বোন শিল্পী চড়ে গাংগোর উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

শ্রম বিক্রি করে উপার্জিত টাকায় তিন ভাই-বোনের শিক্ষাগ্রহণের অদম্য এ ইচ্ছা শক্তির কথা এখন এলাকায় সবার মুখে মুখে।

দরিদ্র আদিবাসী পরিবারে জন্ম হওয়ায় শ্রম বিক্রি করেই চলছে তাদের অনিশ্চিত শিক্ষা গ্রহণের এ পথচলা। তারা জানেনা এত পথ চলা কতদিনের?

অদম্য শিক্ষানুরাগী এ তিন ভাই-বোন নিয়ামতপুর উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়নের পাঁড়ইল গ্রামের বাসিন্দা বর্ণ চড়ের ছেলে-মেয়ে। মা ধনপতি মার্ডি।

খুব কষ্ট করেই সন্তানদের লেখাপড়া করাচ্ছেন এ দম্পত্তি। দিন-রাত পরিশ্রম করে সন্তানদের আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন বুনছেন মনে মনে।

সরেজমিনে বর্ণ চড়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। ঘড়িতে তখন সময় দুপুর সাড়ে বারোটা।

প্রতিবেশীরা জানায়, তারা সবাই গেছে অন্যের জমিতে কাজ করতে। খোঁজ নিয়ে হাজির হই, যেখানে তারা শ্রম বিক্রি করে বোরোর মাঠে কাজ করছে অন্যের জমিতে।

দেখা গেল, দু’বোন শিউলী চড়ে ও শিল্পী চড়ে মায়ের সাথে বোরোর মাঠে ধান রোপণের কাজে ব্যস্ত। সাংবাদিক পরিচয়ে তাদের শিক্ষাগ্রহণের এ সংগ্রামের কথা জানতে চাইলে মুখ খুললেন মা ধনপতি মার্ডি।

তিনি জানান, সন্তানদের আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্নের কথা। জানান, অর্থ সংকটের মধ্য দিয়েও তিন সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার কথা।

তিনি বলেন, অন্যের জমিতে কাজ করে যা আয় রোজগার হয় তা দিয়েই সংসারের খরচসহ সন্তানদের পিছনে লেখাপড়ায় খরচ করেন তিনি।

সন্তানদের যুগোপযোগী ডিজিটাল যুগের চাহিদা মেটানো তো দূরের কথা শিক্ষা সংক্রান্ত চাহিদা মেটাতেই খুব হিমশিম খেতে হয় তাদের।

তিনি বলেন, ‘খুব কষ্ট হয় তখন, যখন সন্তানরা লেখা-পড়া ছেড়ে অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে। মা হয়ে এ দৃশ্য দেখার কষ্ট কত যে বেদনা বিধুর তা তিনিই জানেন।’ এমন সময় লক্ষ্য করা গেল শিক্ষানুরাগী এ মা’র চোখের কোনে চিকচিক করছে জল।

শিউলী চড়ের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের মানুষ এখনও শিক্ষা-দীক্ষা থেকে অনেক পিছিয়ে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি দেশের জন্য, এ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করতে চান। তাই কষ্ট করেই তার এ লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া।

বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার তাদের এগিয়ে নিতে যে সহায়তা করছেন তার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠীর জন্য নিয়ামতপুরে একটি আদিবাসী কার্লচারাল সেন্টার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান কলেজপড়ুয়া এ শিক্ষার্থী।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com