বাংলা হেডলাইনস কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বর্ষার এখনো চার মাস বাকি। তবু ধরলা নদীতে বাড়ছে ভাঙনের শঙ্কা। গত বছরের ভাঙা বাঁধ মেরামত হয়নি।
নদী পাড়ের শত শত মানুষের চোখে-মুখে তাই দুশ্চিন্তার ছায়া। বাঁধ মেরামত ও রক্ষার কাজ না হলে তাঁর ভিটেও হারিয়ে যাবে ধরলার গর্ভে। আবারো দেখতে হবে গতবছরের বন্যার ভয়াল রূপ।
অনেকের চোখে স্বপ্ন হয়ে আসা ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটি দুরাশায় পরিণত হচ্ছে। ৫৯৫ কোটি টাকার এই বৃহৎ প্রকল্পে গত এক বছরে মাত্র ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ফলে ভাঙনে ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি এলাকায় কাজ শুরু করতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩ মার্চ কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীন ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ ডান ও বাম তীর সংরক্ষণ শীর্ষক প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫৮৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ১ মার্চ ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২৩। প্রকল্পের আওতায় ধরলা নদীর বাম ও ডান তীরে ১৬ দশমিক ৮৪০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ, ১৬ দশমিক ৬৬৫ কিলোমিটার বিকল্প বাঁধ নির্মাণ, বাম তীরে ১৭ দশমিক ৯০০ কিলোমিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও চারটি ঘাটলাও নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে।
কিন্তু বরাদ্দ ও অনুমোদনের অভাবে এ পর্যন্ত মাত্র ৪টি স্থানে ২৪৫ কোটি টাকার তীর সংরক্ষণ কাজের টেন্ডার করা হয়েছে।
এসব কাজের মধ্যে রয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলার সোনাইকাজীতে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার, সদর উপজেলার মোঘলবাসায় ১২০ কোটি টাকা ব্য সাড়ে ৩ কিলোমিটার, বাংটুরঘাটে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ কিলোমিটার ও হেমের কুঠিতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণ কাজ। তবে কাজ শুরু হয়নি কোথাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় বরাদ্দ কম। তাই ঠিকাদাররা দ্রুত কাজ শুরু করতে আগ্রহী নন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাজু হার্ডওয়ারের এর স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজার রহমান সাজু বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গত বছরের বাঁধ নির্মাণের ২ কোটি টাকার পাওনা রয়েছে। এবার নতুন প্রকল্পে কাজ শুরু করতে সমস্যা হচ্ছে ঠিকাদারদের। বকেয়া পরিশোধ হলে দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবেন তাঁরা।
এদিকে, প্রকল্পের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় গত বছরের বন্যার মতো এবারো কয়েকটি স্থানে ভাঙন তীব্র রূপ নিতে পারে। বিলীন হতে পারে কয়েক’শ ঘরবাড়ি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, স্কুলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের বন্যায় সদর উপজেলার সারডোবে একটি বিকল্প বাঁধের প্রায় ৪০০ মিটার অংশ ভেঙে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। গৃহহীন হয় শতাধিক পরিবার। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাড়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
বাঁধ সংস্কারসহ তীর সংরক্ষণ কাজের প্রকল্পের নকশা পেতে বিলম্ব হয়েছে। ফলে টেন্ডার করতেও বিলম্ব হচ্ছে। তাই আগামী বর্ষা মৌসুমে বাঁধের বাকি অংশসহ পুরো গ্রাম বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাঁধসংলগ্ন এলাকায় বাস করা সারডোবের ভোলা মিয়া, রমজান, জায়েদুলসহ অনেকেই আশঙ্কা ঘর বাড়ি ভেঙে সড়কে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। আরো কয়েকটি এলাকায় টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। এবছর সব এলাকায় কাজ শেষ না হলেও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় ভাঙন ঠেকানো হবে। তীর প্রতিরক্ষার কাজটি শেষ হলে ধরলাপারের মানুষ নদীভাঙনের অভিশাপ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাবে।