সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী স্থানীয় সরকার জরুরি: রাষ্ট্রপতি ব্রিকসের নয়া দিল্লি ঘোষণায় বহুপক্ষীয়কতাবাদ ও শান্তিতে জোর ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের সপ্তাহে এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই’ এসআরবি বিল পাস, বিলুপ্ত র‍্যাব দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই:উপদেষ্টা জাহেদ

১৯ মার্চ স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ হয় গাজীপুরে

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১
  • ২৯৪ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই দিনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ হয় গাজীপুরে।

সেদিন পাকসেনাদের সাথে মুক্তিকামী জনতার লড়াইয়ে তৎকালীন নাম জয়দেবপুর বর্তমান গাজীপুরের বীর জনতা শহীদ হন। আহত হন অনেকে।

এর পরই দেশ জুড়ে শ্লোগান ওঠে- ‘জয়দেবপুরের পথ ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর’।

গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়িতে অবস্থান ছিল তৎকালীন পাকবাহিনীর দ্বিতীয় ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট।

ওই রেজিমেন্টের বাঙালী সৈনিকদের নিরস্ত্র করা হবে এমন সংবাদে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের বিরেুদ্ধে সেদিন প্রতিরোধ গড়ে তুলে মুক্তিকামী সর্বস্তরের বীর জনতা। সর্বস্তরের জনতার সঙ্গে মরহুম ব্যবসায়ী সমাজ সেবক কাজী আজিম উদ্দিন নিজস্ব বন্দুক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে।

সেদিনের প্রতিরোধ যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে রয়েছে নানা ক্ষোভ আর দাবি। তবে এবার ঐতিহাসিক এ দিনটি পালন করতে এবার রয়েছে বাড়তি আয়োজন।এর জন্যেও রয়েছে নানা প্রস্তুতি।

গাজীপুরের মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের ডাকে পাক বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে ১৯ মার্চ স্থানীয় রেল গেইট, চান্দনা চৌরাস্তাসহ টঙ্গী পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দেয় বীর জনতা। পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালায়। পাল্টা গুলি ছুড়ে সংগ্রামে নামে বীর জনতা।

ওই সংগ্রামে জয়দেবপুর ও চান্দনা চৌরাস্তায় পাক বাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়েছেন নিয়ামত, মনু খলিফা ও হুরমত আলী।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও শহীদ পরিবারের লোকজন অর্থনৈতিক মুক্তি না পেয়ে ও নানা কারণে শহীদ নিয়ামতের ভাই কেরামত আলীসহ অন্য শহীদের পরিবারের লোকজন ক্ষোভ জানিয়েছে।

তারা বলছেন, শহীদদের কবরে একটি কমপ্লেক্সও নির্মাণ হয়নি। এখনো ভাঙাচুরা বাড়ি করে বসবাস করছেন তারা। সেদিন পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সংগ্রাম পরিষদের সেসব নেতাদের মধ্যে আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, মার্চের প্রথম দিকে আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম হাবিব উল্লাহ পরবর্তীকালীন এমপিকে হাইকমান্ডের আহ্বায়ক করে মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় জয়দেবপুরে।

মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের হাই কমান্ডের সদস্য ও অ্যাকশন কমিটির সদস্যরা যথাযথ মর্যাদা পাইনি।

এছাড়াও নানা কারণে তাদের মধ্যে আছে ক্ষোভ। দিবসটিকে রাস্ট্রীয় ভাবে জাতীয় দিবস ঘোষণার দাবিও রয়েছে তাদের । বীরত্বগাথা ১৯ মার্চ এর প্রতিরোধ সংগ্রামের সেদিনটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হবে, শহীদ পরিবারের সদস্যদের এবং সংগ্রাম পরিষদের কমিটিতে থেকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং যারা রাজপথে ছিলেন তাদের সবাইকে দেয়া হবে যথাযথ সম্মান এমনটাই আশা করছেন সবাই।

সংগ্রাম পরিষদের সেদিনের অ্যাকশন কমিটির আহবায়ক বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলছেন, সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে জাতীয় দিবস ঘোষণাসহ নানা পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বীরত্বগাঁথা সেই দিন ১৯ মার্চ মার্চের প্রথম দিকে দুই ধাপে জয়দেবপুর মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মরহুম হাবিব উল্লাহ এমপির নেতৃত্বে প্রয়াত মনির্ন্দ্রনাথ গোস্বামী ও শ্রমিক নেতা মরহুম এমএ মুত্তালিবকে সদস্য করে ৩ সদস্যের হাইকমান্ড এবং বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপিকে আহবায়ক করে অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়।

এ কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম খান এবং সদস্য ছিলেন শেখ মো. আবুল হোসাইন, মো. শহীদুল্লাহ বাচ্চু (মরহুম), বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া, হারুন আর রশিদ ভুইয়া, মো. শহীদুল ইসলাম পাঠান (মরহুম) ও মো. নুরুল ইসলাম।

যদিও এই কমিটি নিয়েও এখন নানা ধরণের বক্তব্য রয়েছে।

গাজীপুরের তৎকালীন নাম ছিল জয়দেবপুর। জয়দেবপুরের ভাওয়াল রাজবাড়িতে অবস্থান ছিল তৎকালীন পাকবাহিনীর ২য় ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট।

১৯ মার্চ সকালে ঢাকার ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব এক কোম্পানি সৈন্যসহ জয়দেবপুর সেনানিবাসে এসে উপস্থিত হন। এসময় ওই রেজিমেন্টের বাঙালী সৈনিকদের নিরস্ত্র করা হবে এমন সংবাদে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের বিরেুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে মুক্তিকামী সর্বস্তরের বীর জনতা।

জনতার সঙ্গে ছিল লাঠি-সোঁটা, তীর-ধনুক, বল্লম, রড আর শাবল। জনতা রাজবাড়ি সড়কে তৈরি করে দুর্ভেদ্য অবরোধ। তারা রেল স্টেশন থেকে মালগাড়ির একটি ওয়াগন এনে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। সংগ্রাম পরিষদের ডাকে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দেয় জনতা।

জয়দেবপুর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে পৌঁছুলে জনতা তাদের কাছ থেকে ৪টি চাইনিজ রাইফেল ও একটি স্টেনগান কেড়ে নেয়। পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালায়। মরহুম কাজী আজিম উদ্দিন মাষ্টারের ব্যক্তিগত বন্দুক দিয়ে পাল্টা গুলি চালানো হয়। সেদিন পাকসেনাদের সাথে মুক্তিকামী জনতার লড়াইয়ে তিনজন বীর জনতা নিয়ামত আলী, মনু খলিফা ও হুরমত আলী শহীদ হন।

এ দিকে জয়দেবপুর বটতলা ব্যারিকেড ভেঙ্গে ঢাকায় যাওয়ার পথে পাক সৈন্যরা চান্দনা চৌরাস্তায়ও শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ে । এখানেও পাকসেনারা নির্বিচারে গুলি চালায়। এসময় ভোগড়া গ্রামের সাহসী যুবক ফুটবলার হুরমত আলী এক পাকসেনার রাইফেল ছিনিয়ে নিতে গিয়ে অপর এক সেনার গুলিতে শহীদ হন। এসময় কানুবীরসহ অনেকে আহত হন।

এর পরই দেশ জুড়ে শ্লোগান ওঠে-‘ জয়দেবপুরের পথ ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কানুবীরও মারা যান।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com