বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের সরকারি হেফাজত খানা নারী, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের আবাসন কেন্দ্র ( সেফ হোম) থেকে ১৪ নিবাসী পলায়ন করেছে।
তবে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানা পুলিশ তাদের ৭জনকে উদ্ধার করেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে আজ সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাগণ আবাসন কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন।
বিকেলে আবাসন কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব মো: সায়েদুল ইসলাম।
কেন্দ্র পরিদর্শন করে তিনি জানান, অবহেলা রয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করার জন্য গাজীপুরে সরকারি আবাসন কেন্দ্র থেকে ১৪ কিশোরী পালানোর ঘটনায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক যুগ্ম-সচিব মনোয়ারা ইশরাতকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়াও এই কিশোরী হেফাজতীদের আবাসন কেন্দ্রের জন্য নতুন একজন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গাজীপুর মহানগরের মোগরখাল এলাকায় অবস্থিত নগরের বাসন থানাধীন ভোগড়া মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র থেকে বুধবার দিবাগত রাতে গ্রীল ভেঙ্গে এই নিবাসীরা বিশেষ কায়দায় উচু দেয়াল বেয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মোল্লা নামে একজন কর্মচারীর অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দুর্ব্যবহারে কিশোরী নিবাসীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
এছাড়াও খাবার-দাবারের মান নিয়েও তাদের মধ্যে রয়েছে অসন্তুষ্টি। এসব কারণেই তারা পরিকল্পনা করে কেন্দ্র ছেড়ে পালিয়েছে।
গাজীপুর সদর থানার ডিউটি অফিসার এসআই আফরোজা শাহনাজ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে জয়দেবপুর রেল স্টেশন এলাকা থেকে ৭ জনকে উদ্ধার করে।
ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ওই কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক এস এম তারিকুল ইসলাম। অন্যান্য নিবাসী ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন।
কেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে ওই কেন্দ্রের দোতলার জানালার গ্রিল ভেঙে এবং খাটের বিছানা দিয়ে ছাদের সঙ্গে বাউন্ডারি ওয়াল পর্যন্ত সিঁড়ি তৈরি করে একে একে ১৪ নিবাসী পালিয়ে যায়। তাদের থেকে ৭জন উদ্ধার হয়।
এই কেন্দ্রে মোট ৩৪ জন নিবাসী রয়েছেন। এদের মধ্যে থেকে ১৪ জন নিবাসী কিভাবে গ্রিল কেটে পালিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই প্রতিষ্ঠানটিতে জনবলের ও পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীর অভাব রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক নিজেও সবসময় প্রতিষ্ঠান থাকেন না।
যেহেতু মেয়েরা এই প্রতিষ্ঠান থাকেন, তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ফ্লোরে নারী আনসার সদস্য দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও নিবাসীদের খাবারের জন্য আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করে তিনি মন্ত্রণালয়ে এর সুপারিশ পাঠাবেন বলে জানান।