বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ সংক্রমণ আতংকের মধ্যে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী বৈসাবী উৎসব।
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব।
সোমবার (১২ এপ্রিল) পাহাড়ের বৈসাবী উৎসবের প্রথম দিন। চাকমা, ত্রিপুরা ও তংচঙ্গ্যারা এ দিনকে বলে ফুল বিজু। আর পরের দিন চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলে মুল বিজু। মুল বিজুর দিনের অতিথি আপ্যায়নও মারমাদের সাংগ্রাইং উৎসব পালন করে থাকে। আর নতুন বছরের ১ম দিনকে মারমারা সাংগ্রাই নামে পালন করে।
এদিকে, সকালে বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে পানিতে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করে। রাঙ্গামাটি রাজবাড়ী ঘাটে বৈসাবী উৎসব উদযাপন কমিটি ও হিলর ভালেদীর উদ্যোগে গ্রামের তরুন তরুনীরা ফুল নদীতে ভাসানোর মধ্য দিয়ে তিন দিন উৎসবের সূচনা করা হয়।
করোনা পরিস্থিতির কারণে কোন প্রকার উৎসব না হলেও প্রতিটি গ্রামের লোকজন নিজ নিজ গ্রামের নদীতে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের প্রথম দিন অতিবাহিত করেন।
করোনার কারণে এবার রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় কোথাও কোনো উৎসবের উচ্ছ্বাস ও আমেজ নেই। নিজ নিজ গ্রামে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করেন।
এই ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়েই শুরু হচ্ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর তিন দিনব্যাপী প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবী।
আগামীকাল মঙ্গলবার মূলবিজু পালিত হবে। বুধবার গোজ্যেপোজ্যে দিন পালিত হবে যার যার ঘরে।
বিজু, বৈসু, সাংগ্রাইং-২০২১ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি চাকমা বলেন, দেশব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সব আনুষ্ঠানিকতা বাতিল করা হয়েছে। তবে পাড়ায় পাড়ায় গ্রামে গ্রামে নিজেদের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে উৎসবের সুচনা করা হয়।
মারমা সংস্কৃতি সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মউচিং মারমা ময়না জানান, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি নিদের্শনার প্রেক্ষিতে মারমা সংস্কৃতি সংস্থারর পক্ষ থেকে সব ধরণের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। কোথাও এবার মারমা জনগোষ্ঠির জলকেলী (পানি খেলা) উৎসব হবে না।
ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঝিনুক ত্রিপুরা বলেন, প্রতিবছর জাকজমকভাবে নদীতে ফুল ভাসানোর আনুষ্ঠানিকতা করা হলেও গত বছর ও এবছর মহামারী করোনার কারণে আমাদের সব আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করা হয়েছে। তবে যে যার মতো করে পাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করছে।
বৈসাবীর উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এই তিনদিনে আনন্দ উৎসবে মেতে থাকলেও এবছরও করোনা মহামারী পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। সরকারের নির্দেশনা ও নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে সামাজিক দুরত্ব মেনে পালন করছে বৈসাবী উৎসব।