বাংলা হেডলাইনস খুলনা প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াসের’ প্রভাবে কপোতাক্ষ, কয়রা ও শাকবাড়িয়া নদীতে জোয়ারের পানি ৬/৭ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে খুলনার কয়রা উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে ১৭ টির অধিক স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও জরাজীর্ণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে মৎস্য ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এছাড়া প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন গ্রামসহ মাছের ঘের প্লাবিত হচ্ছে।
বুধবার দুপুরের জোয়ারে কপোতাক্ষ, কয়রা ও শাকবাড়িয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মহারাজপুর ইউনিয়ন, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের জোয়ারে ৪ টি ইউনিয়নের আরো বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হয়ে পুকুর ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে।
মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামের সদানন্দ সরকারের সাথে কথা হলে তিনি জানান তার নিজের ৫ বিঘা জমিতে একটি মৎস্য ঘের ছিলো। সমিতি থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে ঘের প্রসেসিং করে বাগদা চিংড়ির পোনা ছেড়ে খরচ হয়েছিলো প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। স্বপ্ন দেখেছিলো লাভোবান হবেন।
কিন্তু ইয়াসের প্রভাবে নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের থেকে বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে তার ঘরবাড়িসহ মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। মঠবাড়ি গ্রামে সদানন্দের মত আরো অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছেন।
উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে জরিপ অনুযায়ী প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর মৎস্য ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে।
২ হাজারেরও বেশি মৎস্য চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর চাষিদের ক্ষতির পরিমাণ ১৫ কোটি টাকার বেশি।
তিনি আরো বলেন দুপুরের জোয়ারে আরও মৎস্য ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে সেটি আমাদের হিসাবে নাই। রাতেও প্লবিত হতে পারে।