শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

ধুনটের আমেনা খাতুন নিখোঁজের ২৩ বছর পর দেশে ফিরলেন

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৭ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনটের নিখোঁজ আমেনা খাতুন (৮০) দীর্ঘ ২৩ বছর পর নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন।

সরকারি সহযোগিতায় নেপালের একটি বিশেষ বিমানে সোমবার বেলা ১টার দিকে তিনি ঢাকার শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পৌঁছেন।

দীর্ঘদিন তার খোঁজ না থাকায় সন্তানদের ভোটার আইডিতে আমেনাকে মৃত দেখানো হয়েছে। তিনি ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে নিখোঁজ হয়েছিলেন। বিকাল পৌণে ৫টায় বৃদ্ধার নাতি আদিলুর রহমান আদিল জানান, তারা সাতজন দাদিকে আনতে ঢাকায় গেছেন।

তিনি (দাদি) বড় সবাইকে চিনতে পেরেছেন। দীর্ঘদিন বাড়িতে ফিরতে পেরে তিনি অনেক খুশি হয়েছেন। তারা ধুনটের ছোট চাপড়া গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম রেজিষ্ট্রি অফিসের নকল নবীস আদিলুর রহমান আদিল জানান, দাদা আজগর আলী প্রামানিক ১৯৯৬ সালে মারা যান। দাদি আমেনা খাতুন প্রায় ৪০ বছর মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তার তিন ছেলে আমজাদ হোসেন প্রামানিক, ফটিক মিয়া প্রামানিক ও ফরিদ মিয়া প্রামানিক এবং মেয়ে আম্বিয়া খাতুন আছেন।

ছেলে ফটিক মিয়া ১৯৯৮ সালে সৌদি আরবে চাকরি করতে যান। ডিসেম্বর মাসে দাদি আমেনা খাতুন বাড়ি থেকে বের হবার পর নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজ করে তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সকলে ধরে নেন, আমেনা মারা গেছেন। তাই ছেলে মেয়ের আইডিতে তিনি মৃত।

গত রমজানের ঈদের আগে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তারা সন্তানদের জানান, আমেনা খাতুন নেপালে আছেন। ছবি দেখে পরিবারে সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন। সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর মাসুদ আলম ভিডিও কলে আমেনার সাথে কথা বলার ব্যবস্থা করেন। তখন আমেনা তার সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের চিনতে পারেন।

পরদিন ফেসবুকে মাসুদ আলম স্ট্যাটাস দেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, নেপালে ২২ বছর পর মায়ের সন্ধান পেলেন বগুড়ার আমজাদ হোসেন। ২২ বছর আগে বগুড়ার ধুনট উপজেলার আমেনা খাতুন অভিমানে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। তিন ছেলে ও এক মেয়ে তাকে খুঁজে না পেয়ে তারা ধরে নিয়েছিলেন, তাদের মা বেঁচে নেই। আমেনা খাতুনের বয়স এখন প্রায় ৮০ বছর।

মাসুদ আলম আরো বলেন, নেপালে সুনসারি জেলার ইনারোয়া পৌরসভার ডেপুটি মেয়র যমুনা গৌতম পোখরালের তত্ত্বাবধানে এক বাংলাদেশী নারী আছে উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তিনি ফোনে আমেনা খাতুনের সাথে কথা বলে পরিচয় জানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূতের পরামর্শে ১ জুন কাঠমুন্ডু থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে সুনসারিতে যান। তাকে সহযোগিতা করেন, সুনসার বাঙালি সমাজের সভাপতি বিপ্লব ঘোষ। পরবর্তীতে আমেনা খাতুনের সাথে কথা বলে, তার ঠিকানা জানা সম্ভব হয়।

সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর আমেনা খাতুনকে সরকারি সহযোগিতায় বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়ার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আমেনার নাতি আদিল বলেন, সোমবার বেলা ১টার দিকে বিশেষ বিমানে দাদি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছেন। তারা সাতজন তাকে আনতে গিয়েছিলেন। তিনি (দাদি) বড় সবাইকে চিনতে পেরেছেন। তিনি দীর্ঘদিন পর স্বজনদের পেয়ে খুব খুশি হন। তারাও আনন্দে আত্মহারা।

সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে দাদিকে নিয়ে মাইক্রোবাসে বগুড়ার ধুনটের ছোট চাপড়া গ্রামের দিকে রওনা হয়েছেন। দীর্ঘদিন পর দাদিকে ফিরে পাওয়ায় আদিল বাংলাদেশ সরকার, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

তারা আগামিকাল বাড়িতে দাদির সাথে সাংবাদিকদের কথা বলার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com