বাংলা হেডলাইনস মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: করোনা পরবর্তী জটিলতায় মারা গেলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, সাবেক অধ্যক্ষ বখশী জাহাঁগীর আলী মিঞা উয়ায়েছি।
গতকাল (শুক্রবার) সকাল আটটার দিকে মানিকগঞ্জ ১০০-শয্যা বিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা, এক নাতি ও এক নাতনিসহ অসংখ্য ভক্তবৃন্দ রেখে গেছেন।
মানিকগঞ্জ জেলা শহরের সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ প্রাঙ্গনে বাদ জুম্মা মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বখশী জাহাঁগীর আলী মিঞা ২০০২ সালে মানিকগঞ্জের ঘিওর সরকারী কলেজ থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি রাজশাহী সরকারী কলেজ, মাদারীপুর সরকারী নাজিমুদ্দীন কলেজ, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর কলেজের অধ্যক্ষ, নোয়াখালীর চৌমুহনী কলেজ এবং কুমিল্লার মতলব কলেজের দর্শণ বিভাগে শিক্ষকতা করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক এবং গবেষক। তিনি ‘মুজাদ্দিদ- যুগে যুগে’ এবং ’পাকপাঞ্জাতন ও আহলে বায়েত’সহ বেশকয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
বাংলাদেশ তরিকত অনুসারী পরিষদের প্রেসিডয়াম মেম্বার ছিলেন। তিনি উয়ায়েছি তরিকার মাধ্যমে ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ইরানের ধর্মীয় নেতার আমন্ত্রণে বাংলাদেশের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে ইরান ও ইরাক সফর করেন।
এছাড়া, ভারতের কলিকাতা, দিল্লী, আজমীর আগ্রা সফর করেন।
তিনি ১৯৪০ সালে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চকহরিচরণ গ্রামের বড়বাড়ি জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি জেলা শহরের দক্ষিণ সেওতা এলাকায় বাড়ি করে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। তাঁর স্ত্রী সালেহা খানম বাংলা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষাজীবনে, মরহুম বখশী জাহাঁগীর আলী মিঞা ১৯৬০ সালে নিজ এলাকার দৌলতপুর পিএস হাই স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন ও ১৯৬২ সালে টাঙ্গাইলের করোটিয়া সাদত কলেজ থেকে আই পাশ করেন। ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে অনার্স এবং ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করেন।
এরপর তিনি, দেশের বিভিন্ন এলাকার সরকারি-বেসরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।