বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদী ভাঙন রোধে নির্মিত স্পারের সংযোগ সড়ক কেটে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু পরিবহণ করা হচ্ছে।
একদিকে স্পারের কাছ থেকে বালু উত্তোলন অন্যদিকে স্পার কেটে ট্রাক/ট্রলিতে বালু পরিবহণ করায় হুমকির মুখে পড়েছে স্পারটি। এলাকাবাসীরা এ ব্যাপারে প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদী ভাঙনরোধে ২০০২ সালে সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া বাজারের সামনে ১০১৫.৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৫৮ মিটার স্পার নির্মাণ করা হয়। একই সাথে নিজবলাইল বাজারের সামনেও একটি স্পার নির্মিত হয়েছিল। ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতির ছেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগ নেতা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে কয়েকজন প্রভাবশালী নিজবলাইল বাজারের সামনে হাসনাপাড়া ১নং স্পারের কাছে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। স্পারের সংযোগ সড়কের সিসি ব্লক তুলে ফেলে বালু পরিবহনের রাস্তা বানানো হয়েছে।
অপরদিকে হাসনাপাড়া বাজারের সামনে ২ নং স্পারের কাছ থেকে বালু উত্তোলন করছেন, সাবেক ইউপি সদস্য হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এফাজ উদ্দিন প্রামানিক ও আওয়ামী লীগ নেতা বাদল মিয়া। স্পারের ব্লক সরিয়ে রাস্তা বানিয়ে দিনভর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পরিবহণ চলছে। নিজবলাইল গ্রামের কৃষক বৃদ্ধ আবদুল মজিদ প্রামানিক জানান, স্পার দুটি না থাকলে এতদিন তাদের গ্রাম রাক্ষুসী যমুনার পেটে চলে যেতো।
বর্তমানে প্রভাবশালীরা যেভাবে স্পারের ব্লক সরিয়ে রাস্তা বানিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহণ করছে তাতে অচিরে স্পার বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। তখন তাদের বাড়িঘর হারিয়ে রাস্তায় বা বাঁধে আশ্রয় নিতে হবে। অন্য কৃষকরা জানান, যমুনা নদীর ভাঙনে তারা পরিবার নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। সেই বাঁধের উপর দিয়ে দিনরাত বালু নিয়ে ট্রাক/ট্রলি চলাচল করে। রাতে বিকট শব্দে তাদের ঘুম হয়না। স্পারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া স্পার কেটে বালু উত্তোলন ও পরিবহণের কারণে সংযোগ সড়কে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা স্পারে উঠতে পারছেন না। এক পর্যটক জানান, তারা কয়েকজন গাবতলী উপজেলা থেকে হাসনাপাড়ায় স্পার এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন। কিন্তু গর্তের কারণে স্পারে উঠতে না পেরে তারা কালীতলা ঘাটের দিকে ফিরে যাচ্ছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম দৃঢতার সাথে বলেন, আপনারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ নন। সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে দেখার অধিকার নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সমস্যা হলে তারা বালু উত্তোলনে বাধা দিবেন।
হাটশেরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর মেহেদী হাসান আলো জানান, বালু উত্তোলনকারীদের সতর্ক করা হলেও তারা এ ব্যাপারে কর্ণপাত করছেন না। তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চাইবেন বলে জানিয়েছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, স্পার এলাকায় মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়। শিগগিরই আবারো সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হবে।