বাংলা হেডলাইনস নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় শয়নঘর থেকে মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার সময় উপজেলার গণেশপুর ইউপির গণেশপুর মন্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সংবাদ পেয়ে রাতেই পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঘটনার পর থেকে নিহত আমেনা বেগমের স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছেন। শাশুড়ি রেজেদা বেগম (৫০) কে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
নিহতরা হলেন-গণেশপুর মন্ডল পাড়া গ্রামের ময়েন উদ্দিনের স্ত্রী আমেনা খাতুন (২২) ও তাঁর ছেলে আমির হামজা (২)।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় ৪-৫ বছর আগে আমেনা খাতুনকে আবেদ আলী মৃধার ছেলে ময়েন উদ্দিনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়।
বিয়ের সময় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের ডিসকভার মোটরসাইকেল, সোনার গহনাসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন আসবাবপত্র জামাইকে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও টাকার দাবি করে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিল জামাইসহ তাঁর পরিবারের লোকজন।
তারা আরও বলেন, প্রায় তিন মাস পূর্বে আমেনাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর বেশ কিছু দিন বাবার বাড়িতে সন্তান নিয়ে ছিল। তিন সপ্তাহ আগে গণেশপুর ও শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মধ্যস্থতায় সালিশের পর তাকে জামাই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকদিনের মাথায় আমেনা ও তাঁর দুই বছরের ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে জামাইসহ তার পরিবার।
নিহতের চাচা সাগর মাহমুদ বলেন, সংবাদ পেয়ে শনিবার রাত ১১টার দিকে জামাই বাড়ি গিয়ে শয়নঘরের খাটের উপর মা ও ছেলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। পরে পুলিশকে সংবাদ দেওয়া হলে লাশ দুটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ সময় জামাই ময়েন উদ্দিন ও বেয়াই আবেদ আলী বাড়িতে ছিল না।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মা ও ছেলের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহত আমেনা খাতুনের শাশুড়ি এজেদা বিবিকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।