বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় সখের বসে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে স্ত্রী রেজিয়া আকতার স্মৃতিকে ঘরে আনলেন রইসুল ইসলাম হিমু নামে এক ব্যাংকার।
দু’বছর আগে বিয়ে হলেও করোনাভাইরাসের কারণে এতদিন তার সখ ও স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার সকালে পাশের কাহালু উপজেলার বামুজা গ্রামে শ্বশুর বাড়ি থেকে বউ ঘরে আনার পর শুধু ওই দম্পতি নয়; তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তুষ্ট। দুই উপজেলার গ্রামবাসীদের মাঝেও ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক্সিম ব্যাংক নওগাঁ শাখার সিনিয়র অফিসার রইসুল ইসলাম হিমু বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকার ড. আবদুল মান্নানের ছেলে। ড. মান্নান কাহালুর বামুজা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
হিমু প্রায় দু’বছর আগে পাশের কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের বামুজা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদ মাস্টারের (দুপচাঁচিয়ার দাইমপুর দাখিল মাদরাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক) মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রেজিয়া আকতার স্মৃতিকে বিয়ে করেন। করোনার কারণে এতদিন স্ত্রীকে ঘরে তুলতে পারেননি।
এদিকে হিমুর খুব ইচ্ছা ছিল তার নবপরিণিতাকে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে এনে ঘরে তুলবেন। শুক্রবার তিনি তার সে সখ পূরণ করলেন। ঘটা করে স্ত্রী স্মৃতিকে হেলিকপ্টারে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বগুড়ার টিএমএসএস’র বিসিএল থেকে ভাড়া করা হেলিকপ্টর শুক্রবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বরের বাড়ি দুপচাঁচিয়ার চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রিন্সিপাল প্যালেসের সামনে খোলা মাঠে অবতরণ করে। বর হিমু তার স্বজনদের নিয়ে কনের বাড়ি কাহালুর বামুজা গ্রামে যান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে নিয়ে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িতে ফিরে আসেন হিমু। প্রত্যন্ত গ্রামে হেলিকপ্টারে বিয়ের ঘটনা জানাজানি হলে বিপুল সংখ্যক উৎসুখ নারী, পুরুষ ও শিশুরা দুটি বাড়িতে ভিড় করেন।
বর ব্যাংকার রইসুল ইসলাম হিমু জানান, অনেকদিনের সখ ছিল স্ত্রীকে হেলিকপ্টরে ঘরে আনবেন। কিন্তু করোনার কারণে এতদিন সম্ভব হয়নি। তাই দু’বছর পর সে সখ পূরণ করলেন। বরের বাবা অধ্যক্ষ ড. আবদুল মান্নান জানান, হেলিকপ্টরে বউমাকে ঘরে এনে ছেলের সখ পূরণ করেছেন মাত্র।
নববধু রেজিয়া আকতার স্মৃতি তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, হেলিকপ্টরে শ্বশুর বাড়িতে আসতে পেরে তার অনেক ভালো লাগছে। পাশাপাশি গর্ববোধও হচ্ছে।
রেজিয়ার বড় ভাই রাজিব মিয়া জানান, গত ২০২০ সালে তার বোনের বিয়ে হয়েছিল। করোনার কারণে এতদিন বিদায় দেওয়া হয়নি। বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বোনকে শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়েছেন।
দুই গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কনেকে হেলিকপ্টরে উড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় তাদের মাঝে অনেক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছিল। তারা হিমু-স্মৃতি দম্পতির জন্য দোয়া করেছেন।