বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় শনিবার ভোরে চার মিনিট স্থায়ী ঘন্টায় ৮৮.৬ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
গাছের ডাল ও ঘরের প্রাচীরের চাপায় দু’জন মারা গেছেন। ঝড় ও বৃষ্টিতে অসংখ্য গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। অসংখ্য পাকা ও আধাপাকা বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে।
গাছের ডাল ভেঙে তারের উপর পড়ায় শনিবার বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে বাসাবাড়িতে পানি না থাকায় রান্না ও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ঝড়ের তান্ডবে শহরের বিভিন্ন পার্কে পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মৃত্যু হয়েছে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ আল জানান, শনিবার ভোর চারটার দিকে পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। চার মিনিট স্থায়ী ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৮৮.৬ কিলোমিটার। এটা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ ঝড়। এর আগে গত ১৯ মে ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৭৭.৭ কিলোমিটার। এছাড়া ঝড়ের পাশাপাশি শুক্রবার রাত ৩.৪০ মিনিট থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দমকা বাতাসের সাথে বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় ৩৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে ঝড়ে শহরে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শহীদ খোকন পার্ক, এডওয়ার্ড পার্কে কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে।
শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় টিনের ঘরবাড়ির চালা উড়ে যায়। জমিতে থাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বগুড়া কৃষ্টি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক ইউসুব রানা মন্ডল জানা, বোরো ধান কাটামাড়াই চলাকালে এ ঝড়ে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর আমসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল ঝড়ে পড়েছে।
নর্দার্ন পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানীর (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়া ছাড়াও গাছের ভাঙ্গা ডাল তারে পড়ে পড়েছে। এতে শনিবার ভোর ৪টা থেকে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বিকাল পৌঁছে ৬টায় এ খবর পাঠানোর সময় পর্যন্ত অনেক ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হয়নি।
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় শহরের অধিকাংশ বাড়িতে রান্না ও গোসল করা সম্ভব হয়নি। শনিবার ভোরে হঠাৎ ঝড়ের তান্ডবে ঘর ও গাছের চাপায় দিনমজুর শাহীন আলম (৪৫) ও মালি আবদুল হালিম (৫০) মারা গেছেন।
কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামে একটি ঝুঁপড়ি ঘরে ওই গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে শাহীন আলম অবস্থান করছিলেন। পাশের একটি পাকুর গাছ ভেঙে ঘরের উপর পড়লে চাপা পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শাজাহানপুর উপজেলার বৃকুষ্টিয়া গ্রামে আনসার আলীর ছেলে আবদুল হালিম শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত গাছের ডাল কাটছিলেন। এ সময় তিনি গাছের চাপায় গুরুতর আহত হন। দুপুরে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে তিনি মারা যান।
অপরদিকে শনিবার ভোরে ঝড়ের তান্ডবে শহরের পৌর পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে নানা প্রজাতির অন্তত ৫০০ পাখির মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া পাখির মধ্যে দাঁড় কাক, পাতি কাক, গো শালিক, ভুবন চিল, শালিক, টিয়া ও বক রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন টিম ফর এনার্জি এন্ড ইনভায়রনমেন্ট রিসার্চ (তীর) বগুড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসান বলেন, পৌর পার্ক ছাড়াও বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে পাঁচ শতাধিক পাখি ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছে।