বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর প্রতিনিধি: প্রেমের টানে ধর্মান্তরিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে খ্রিস্টান যুবক রাইয়ান কফম্যান এসেছেন গাজীপুরে। এসে এখানকার মেয়ে সাইদা ইসলামের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আনন্দ-উল্লাসের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রথমবার এসেই এদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছেন তিনি। এখানে বিয়ে করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। শ্বশুরবাড়ির আতিথিয়তায় ও ভালোবাসায় মুগ্ধ।
তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রাইয়ান বলেন, বাঙালিরা খুবই অতিথি পরায়ণ। বাংলাদেশে আসার পর দেখছি আমার প্রতি সবাই খুবই আন্তরিক। ভাঙ্গা ভাঙ্গা একটু একটু বাংলাও বলতে পারেন রাইয়ান। দুজনে চোখে চোখ রেখে, হাতে হাত ধরে ‘আমি চিনি গো চিনি ওগো বিদেশিনী’ এমন গানে গানে রাইয়ান আর সাইদা ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন সবার সামনেই।
এমন গভীর ভালোবাসার টানেই আমেরিকা থেকে এসে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ভোগড়া মধ্যপাড়া এলাকার কনে সাইদা ইসলাম (২৬) এর সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। বিয়ের পর খুবই উচ্ছ্বসিত তারা। বিয়ে করে কয়েকদিন ধরে এখন বেশ আনন্দেই আছেন। দেশে ফিরে স্ত্রীকে ও নিয়ে যেতে চান সেখানে।
কনে সাইদা ইসলাম জানান, প্রায় এক বছর ধরে চলে প্রেমের সম্পর্ক। এরপর দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্ত। রাইয়ান কফম্যান (২৭) বিয়ে করার জন্য খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে উভয়ের পরিবারের সম্মতিতে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় গত ১ জুন তাদের বিয়ে হয়। তাদের এই বন্ধন আজীবন অটুট থাকবে বলে আশাবাদী সাইদা ইসলাম।
সাইদা নগরের ভোগড়া এলাকার মোশারফ হোসেন মাস্টারের নাতনি ও মৃত সিকন্দার আলীর মেয়ে। কনের নানা মোশারফ হোসেন, তার পরিবারের লোকজনও এলাকাবাসী দুজনের বিয়ে আর বিদেশি পাত্রের আচার-ব্যবহার নিয়ে নিয়ে দারুণ খুশি। গোটা এলাকায় তাদের নিয়ে যেন চলছে উৎসবের আমেজ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিজুরি স্টেটের ক্যানসাস সিটির নাগরিক রাইয়ান গত ২৯ মে এদেশে আসেন। তিনি তার এলাকার একটি প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কারখানায় অপারেটর পদে কাজ করেন। লেখাপড়া করেছেন মাধ্যমিক স্কুল পর্যন্ত। তার মা-বাবা ছাড়াও এক বড় ভাই রয়েছেন। তারা সেখানে প্রত্যেকেই আলাদাভাবে বসবাস করেন। রাইয়ান বাংলাদেশে আসার আগেই বিয়ের গহনা ও কাপড়-চোপড়সহ মোবাইল ফোন কেনার জন্য টাকা পাঠিয়ে দেয়। আসার আগেই ওই টাকা দিয়ে বিয়ের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করা হয়।
কনে সাইদা ইসলাম ঢাকার দনিয়া এলাকায় বসবাস করতেন। ২০১৯ সালে তার বাবা মারা যায়। এরপর থেকে সে ঢাকা থেকে গাজীপুরে চলে নানার বাড়ি চলে আসে। বাবা মারা যাওয়ার এক বছর পর (২০২০ সালে) স্নাতক পাস করে সাইদা। বর্তমানে নানা-বাড়িতেই আছেন।
সাইদাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশে ফিরে গিয়ে রাইয়ান আনুষঙ্গিক কাগজপত্র (কে-ওয়ান) ভিসা প্রসেসিং শুরু করবেন। এতে হয়তো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এসব সম্পন্ন হলেই সাইদাকে আমেরিকা নিয়ে যাবে।
তারা দুজনেই জানান, ২০২১ সালের এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইদার প্রথম পরিচয় হয় রাইয়ান কফম্যানের সঙ্গে। এ সময় তারা নিজেদের ফোন নম্বর, ফেসবুক আইডি ও ঠিকানা বিনিময় করেন। এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। ফোন ও ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ট হয় এবং দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলেন। এভাবে প্রায় এক বছর ফেসবুকে প্রেম করে বিয়ের মাধ্যমে প্রেমের পরিণতি ঘটে।