বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার চাঞ্চল্যকর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেধাবী ছাত্র আল জামিউল বনি (২৪) হত্যার প্রধান আসামি আরিফ শেখ ওরফে আরিফ বিহারী (২৮) ধরা পড়েছে।
র্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানীর সদস্যরা হত্যাকান্ডের এক মাসের মাথায় শনিবার মধ্যরাতে তাকে রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া থেকে গ্রেফতার করেন।
রোববার দুপুরে এক প্রেস বিফ্রিং-এ র্যাবের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার এএসপি নজরুল ইসলাম জানান, আরিফের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, অবৈধভাবে জমি দখলসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
বিকালে আরিফ শেখকে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিকের আদালতে হাজির করলে সে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিং ও এজাহার সূত্র জানায়, নিহত আল জামিউল বনি বগুড়া শহরের মালতিনগর পশ্চিমপাড়ার দন্ত চিকিৎসক আনিসুর রহমান বাবুর ছেলে। বনি বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্সের পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। পবিত্র কোরআনে হাফেজ বনি একজন সাইক্লিষ্ট। তিনি বিডি ক্লীনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। গত ৩ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বনি তার এক বান্ধবীকে নিয়ে শহরের কলোনী এলাকায় ‘গোশতের চাপ’ খেতে যান। তখন ওই এলাকার আরিফ শেখ ওরফে আরিফ বিহারী ও সোহান তার বান্ধবীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে তার (বনি) সাথে ওদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা বনির মাথায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করলে কিছুক্ষণ পর বনি মারা যান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরদিন নিহতের বাবা সদর থানায় শহরের লতিফপুর কলোনী এলাকার আজিজ শেখের ছেলে আরিফ শেখ ও সোহানের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর থেকে র্যাব হত্যারহস্য উদঘাটন ও আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গোপনে খবর পেয়ে শনিবার মধ্য রাতে রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকা থেকে বনি হত্যার প্রধান আসামি আরিফ শেখ ওরফে আরিফ বিহারীকে গ্রেফতার করা হয়।
হত্যাকান্ডের পর সে বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায়, ঢাকার গাজীপুর ও পরবর্তীতে রাজশাহীতে আত্মগোপন করে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, অবৈধভাবে জমি দখলসহ অনেক মামলা রয়েছে।
এএসপি নজরুল ইসলাম আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ শেখ স্বীকার করে যে, সে তার সহযোগী সোহান মিলে বনিকে ছুরিকাঘাতে জখমের মাধ্যমে হত্যা করেছে। আরিফের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তরিকুল ইসলাম জানান, আরিফ শেখকে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিকের আদালতে হাজির করলে সে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।