বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ভাদাইলে পূর্ব বিরোধের জের ধরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারপিটে আহত বগুড়ার গার্মেন্টস কর্মী রাকিবুল ইসলাম উজ্জ্বল (২৮) সোমবার সকালে স্থানীয় ডা. এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে।
এ ঘটনায় বগুড়ার শেরপুরের গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের মাঝে আহাজারি চলছে। তারা ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আশুলিয়া থানার এসআই রাজু মন্ডল জানান, লাশ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের ভাই সুজন মাহমুদের মারপিটের মামলা হত্যা মামলায় পরিণত হবে। এতে ৫-৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, নিহত রাকিবুল ইসলাম উজ্জ্বল বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ায় তারা শেরপুর উপজেলায় বসবাস করেন। তিনি তার ভাই ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ভাদাইল মধ্যপাড়ায় ভাড়া বাসায় থেকে নতুন ইপিজেডের প্যাক্সার বাংলাদেশ লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দির কামালপুর ইউনিয়নের সুতানারা গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে জুয়েলের (২৮) স্ত্রী ও গার্মেন্টসকর্মী। তারাও আশুলিয়ায় ভাদাইল মধ্যপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। গত ফেব্রুয়ারিতে জুয়েল ও তার লোকজন পূর্ব বিরোধে উজ্জ্বলের বন্ধুকে মারপিট করেন। তখন উজ্জ্বল মিমাংসার উদ্যোগ নেন ও এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। বিষয়টি নিয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দির গ্রামের বাড়িতে মিমাংসা হয়ে যায়।
এদিকে গত ১ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জুয়েল, সুমন, মিল্লাত, ইতল, রবি ও জিল্লুর বাড়ি থেকে উজ্জ্বলকে ডেকে বের করে। এরপর তারা সকলে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে উজ্জ্বলকে বেধড়ক মারপিট করেন। গুরুতর আহত উজ্জ্বলকে প্রথমে স্থানীয় জামগড়া নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভার ডা. এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি মারা যান। আগের দিন ভাই সুজন মাহমুদ আশুলিয়া থানায় মারপিটের মামলা করেন।
সুজন মাহমুদ জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে পিটিয়ে তার ভাইকে হত্যার সাথে জড়িত সকলের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে। সোমবার দুপুরে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে উজ্জ্বলের ময়নাতদন্ত হয়েছে। সারিয়াকান্দিতে বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ায় বর্তমানে তারা শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ মাদ্রাসাপাড়ার বসবাস করেন। সেখানে দাফন করবেন। তিনি তার ভাইকে হত্যার জড়িতে অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই রাজু মন্ডল জানান, মারামারির মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।