বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের হৈমাবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে জেলার প্রথম স্মার্ট বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ঘোষণা পর থেকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাইরে ঘোরাফেরা করতে না পারায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার অনেক বেড়ে গেছে। সেইসাথে মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন অভিভাবকরা।
আইডি কার্ড পাঞ্চ করে ক্লাসে প্রবেশ করার সাথে সাথেই ডাটা উঠে যাচ্ছে হাজিরা শিটে এবং মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে অভিভাবকরা নিশ্চিত হতে পারছেন তাদের মেয়েরা বিদ্যালয়ে কখন যাচ্ছে ও কখন বের হচ্ছে।
সরেজমিন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে নিজেদের আইডি কার্ড পাঞ্চ করে ক্লাসে প্রবেশ করছে এবং শিটে তাদের হাজিরা উঠে যাচ্ছে। এসময় দেখা যায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষই ভরে গেছে।
শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় ক্লাসে শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ থাকায় তারাও পাঠদানে উৎসাহ ও আনন্দ পাচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে।
কেউ ক্লাস ফাঁকি দিতে বাহিরে ঘোরাফেরা ও আড্ডা দিতে পারছেনা। চলতি বছরের ১৮ জুলাই বিদ্যালয়টিকে আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে স্মার্ট বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, বেতন ফি জমা দেয়া, মূল্যায়ন রিপোর্ট, পরীক্ষার সিট প্লান, পরীক্ষার ফলাফলের সব জটিলতা ও ভোগান্তি কাটিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে সব কিছুই এখন পানির মতো সহজ হয়ে গেছে।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ক্লাবসহ স্মার্ট বিদ্যালয়ের সব সুযোগ সুবিধাই এখন পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের বিদ্যালয়কে জেলায় প্রথম স্মার্ট বিদ্যালয় ঘোষণা করায় তারা খুবই গর্বিত। সেইসাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলছে, আইডি কার্ড পাঞ্চ করে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করাসহ তাদের বাবা-মা নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে।
অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্মার্ট স্কুল হওয়ার পর থেকে এই স্কুলে আমাদের সন্তানরা অনেকটাই নিরাপদ। কারণ মোবাইল মেসেজে আমরা জানতে পারছি মেয়ে এখন কোথায় আছে।
তাছাড়াও বেতন, পরীক্ষা ফি, বিদ্যালয়ের যাবতীয় তথ্য জানতে পারছি অনলাইনের মাধ্যমেই। ফলে সবকিছু খুব সহজ হয়ে গেছে।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়টি সিরাজগঞ্জে প্রথম স্মার্ট বিদ্যালয় করা হয়েছে। আইডি কার্ডে পাঞ্চ করে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করার পদ্ধতির কারেণে উপস্থিতির হার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুলতান মাহমুদ জানান, সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা স্মার্ট বিদ্যালয় ঘোষণা করেছি। স্মার্ট বিদ্যালয়ের সকল সুবিধা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।