বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনে লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। এখন শুধু ভোট গ্রহণের পালা।
শনিবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিভিন্ন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের যাবতীয় ব্যালট পেপার ও আনুসাঙ্গিক সামগ্রি দেয়া হয়। এসময় বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ উপস্থিত থেকে এই নির্বাচনী সরঞ্জাম গ্রহণ করেবিভিন্ন কেন্দ্রের উদ্যোশে রওনা দেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর রাঙ্গামাটির দশ উপজেলা ও দুই পৌরসভা নিয়ে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৪ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪১৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৬ জন। রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় ৫০টি ইউনিয়নে ২১৩টি ভোট কেন্দ্র ও ১০১৪টি বুথে ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক ভোট প্রয়োগ করবে।
এদিকে রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলার মোট ২১৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪টি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ১৮টি‘হেলিসর্টি’ কেন্দ্র রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে পার্বত্য রাঙ্গামাটির ১৮টি দুর্গম অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচনী অন্যান্য সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার, স্ট্যাম্প প্যাড এবং অমোর্চনীয় কালি।
এর আগে জেলার ১০ উপজেলা রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, রাজস্থলী, নানিয়ারচর, লংগদু, কাউখালী, দুর্গম উপজেলা বরকল, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি এবং বিলাইছড়ি উপজেলায় ব্যালট পেপার এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয় ।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি ২৯৯নং আসনের ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাঙ্গামাটি জেলার ২৯৯ একটি আসনে লড়ছেন দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান এমপি দীপংকর তালুকদার, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট সমর্থিত প্রার্থী ছড়ি প্রতীক নিয়ে অমর কুমার দে ও তৃণমূল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সোনালি আঁশ প্রতীক নিয়ে মো. মিজানুর রহমান।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, রাঙ্গামাটি জেলায় সব কয়টি উপজেলায় নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলার মোট ২১৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪টি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ১৮টি ‘হেলিসর্টি’কেন্দ্র রয়েছে। মূলত দুর্গম এলাকার কথা বিবেচনা করে আগেই নির্বাচনী ব্যালট পেপার এবং সরঞ্জাম পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
এই ১৮টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে জুরাছড়ি উপজেলায় ৮টি, বাঘাইছড়িতে ৫টি, বরকলে ২টি ও বিলাইছড়িতে কেন্দ্র রয়েছে ৩টি। নির্বাচন শেষে পুনরায় নির্বাচনি সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের নিয়ে আসা হবে। এছাড়া রাঙ্গামাটি আসনে সুষ্ঠ ভোট করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
তিনি আরো বলেন, এই আসনে কেউ কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না। কোথাও কোন কেন্দ্র দখল বা জাল ভোটের তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটিতে নির্বাচন যাতে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ হয় তার জন্য ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। এছাড়াও বিজিবি, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা করার কোন সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না।