বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে এবার আগাম মৌসুমি ক্ষিরা ও শসা চাষাবাদের বাম্পার ফলন হয়েছে।
পবিত্র মাহে রমজানে হাট-বাজারে এ ক্ষিরা শসার দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষাণ-কৃষাণীরা ক্ষিরা শসা তোলায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলসহ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে এই ক্ষিরা শসার চাষাবাদ করেছে কৃষকেরা। ইতিমধ্যেই স্থানীয় হাট-বাজারে এই ক্ষিরা শসা উঠছে এবং পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতার ভিড় জমে উঠেছে।
পবিত্র রমজান মাসে এ ক্ষিরা শসার চাহিদা বেশি হওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষিরা শসার আড়ৎও গড়ে উঠছে। বিশেষ করে তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার অনেক স্থানে এসব আড়ৎ ক্ষিরা ও শসার স্তূপ গড়ে উঠেছে। এই ক্ষিরা শসা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে ব্যবসায়ীরা। পাইকারী প্রতি মণ ক্ষিরা শসা গড়ে ১১০০ থেকে সাড়ে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এই ক্ষিরা শসা হাট-বাজারে খুচরা মূল্য ৪৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্বল্প খরচে এই চাষাবাদে দাম ভালো পাওয়ায় এখন কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, তাড়াশ, কাজিপুর, উল্লাপাড়া, চৌহালী, শাহজাদপুর, বেলকুচি, রায়গঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই ক্ষিরা ও শসা চাষাবাদ করা হয়েছে। তবে যমুনা নদীর তীরবর্তী ৫টি উপজেলার চরাঞ্চলে এই ক্ষিরা ও শসা চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ক্ষীরা ও শসা চাষ করতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা জমি থেকে উৎপাদিত ক্ষীরা বিক্রি হয় ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। এই আবাদে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম। এজন্য কৃষকেরা এ লাভজনক ক্ষিরা শসা চাষাবাদে বেশি আগ্রহী। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো আগাম ক্ষিরা ও শসা চাষাবাদ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, এবার শীত মৌসুমে জেলায় সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে আগাম ক্ষিরা ও শসা চাষাবাদ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয় কৃষকদের এই চাষাবাদে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এ কারণে ক্ষিরা শসা চাষাবাদে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। হাট-বাজারে এখন দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।