বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত।। আজ সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট নারীদের জন্য পিংক বাস সার্ভিস উদ্বোধন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ।। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতিতে আরও সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে সর্বনিম্ন ২ বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন: মির্জা ফখরুল বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ ৪ নতুন সদস্য তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী প্রার্থী বাছাইয়ে সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন মির্জা ফখরুল বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী

রাষ্ট্রপতির ‘অপসারণের’ আলোচনা দলীয় ফোরামে তুলবে বিএনপি: হাসনাত

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৫৩ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের বিষয়ে বিএনপির মতামত জানতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা।

বিএনপি নেতারা তাদের বক্তব্য শোনার পর দলীয় ফোরামে এ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে সংগঠন দুটোর নেতাদের জানিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেড় ঘন্টাব্যাপী এ বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, তারা মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন- দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের ঘোষণা, রাষ্ট্রপতির অপসারণ এবং জাতীয় ঐক্য সুসংহত করা।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণসহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করার কথা বৈঠক শেষে তুলে ধরেন সংগঠন দুটির নেতারা।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপি নেতারা বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ফোরামে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

“যেকোনো ধরনের সংকট কীভাবে এড়ানো যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। জাতীয় ঐক্যেকে সুদৃঢ় করে কীভাবে কাজ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও অপসারণের দাবি সামনে আসার পর গত কয়েকদিন থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে অবস্থান সুষ্পষ্ট করার কথা বলেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে গত দুদিন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে বৈঠকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা গত দুইদিন ধরে দেশের প্রমিনেন্ট যে রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে, যারা গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছে তাদের সাথে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে আজকে আমরা বিএনপির সাথে আলোচনা করেছি।

“আপনারা জানেন, আমরা ২৩ তারিখ জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলাম সকল রাজনৈতিক দল যারা গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল যারা আমাদের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বে এসে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন আমরা ঘটিয়েছি। এটা ছিল প্রাথমিক ধাপ। এখন ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিলোপের ক্ষেত্রে আমাদের সামনে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে চুপ্পু (রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন) এর অপসারণ।“

বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রপতির অপসারণ খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে কীভাবে করা যাবে এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য কীভাবে বের করা যাবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তুলে ধরেন তিনি।

গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর দেন। সেই রাতেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার কথা বলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এর আড়াই মাসের মাথায় এ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয় গত ১৯ অক্টোবর মানবজমিন পত্রিকার রাজনৈতিক ম্যাগাজিন ‘জনতার চোখ’ এর প্রচ্ছদ প্রতিবেদন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর একটি লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর।

সেখানে রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে মানবজমিন সম্পাদক লেখেন, “আমি শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আমার কাছে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই।”

এর প্রতিক্রিয়ায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদেরকে বলেন, রাষ্ট্রপতির ওই বক্তব্য ‘মিথ্যাচার’ এবং এর মধ্য দিয়ে তার ‘শপথ লংঘন’ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এখন আর পদে থাকার যোগ্য আছেন কিনা, সেই প্রশ্ন উপদেষ্টা তোলেন।

তবে সংসদ না থাকায় তাকে অপসারণের সাংবিধানিক উপায় না থাকায় সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীসহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন।

এ ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে বিএনপির একটি প্রতিনিধি, দেশে সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক সংকট যাতে তৈরি না হয় সেবিষয়ে জোর দেয়।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরে অন্য দিকে মোড় নেয়, যখন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতির থাকা না থাকা ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়, সাংবিধানিক নয়’। আর সেজন্য বঙ্গভবনের বাইরে আন্দোলনেরও প্রয়োজন নেই।

এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের কথা বলা হয়।

ছাত্র নেতারা গত দুইদিনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ এর সঙ্গে বৈঠক করেছে।

বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘‘জামায়াত তাদের জায়গা থেকে কথা বলেছেন। তারা ইতোমধ্যে বলেছেন যে, তারা বলেছেন, নৈতিকতার জায়গা থেকে চুপ্পুর আর কোনো ধরনের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

“ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে চুপ্পুর অপসারণ চায়।”

রোববার গণতন্ত্র মঞ্চে, ১২ দলীয় জোট ও গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানান হাসনাত।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ছিলেন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসুদ, সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, মুখপাত্র উম্মা ফাতেমা, সমন্বয়ক রিফাত রশিদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্য সচিব আকতার হোসেন, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, সদস্য আরিফুল ইসলাম আদিব উপস্থিত ছিলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “চুপ্পু মাস্ট বি গোন। আমরা টাইম ফ্রেম বেঁধে দিচ্ছি না।”

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com