বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বসার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ‘পা কেটে নেওয়ার’ অভিযোগ জুলাই সনদ নিয়ে যারা বিভ্রান্ত করছে, তারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি: বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা প্রত্যাখ্যান ইরানের জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো ।। মধ্যরাত থেকে কার্যকর বিএনপিকে ভুল থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জামায়াতের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার ঢাকায় জামায়াত জোটের ‘গণমিছিল’ ইরান যুদ্ধকে ‘ভুল’ বললেন যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে কিন্তু স্বৈরাচারের ভূত রয়ে গেছে : প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ অবরোধের মুখে উপসাগরীয় বন্দরগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

ভোটে দ্বৈত নাগরিকরা সুযোগ পেলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭২ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: কোনো দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি— এনসিপি।

ইসির আপিল শুনানির শেষদিন রোববারকে ‘রেডলাইন’ আখ্যা দিয়ে দলটি বলছে, কোনো ‘ফাঁকফোকর দিয়ে’ দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি পার করে দেওয়ার চেষ্টা হলে তারা আইনি লড়াইয়েও যাবে।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।

কোনো প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “আমরা কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে নির্বাচন করতে দেব না।

“আমরা দেখলাম, অনেকেই দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার পরেও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে গুণ্ডামি করছেন; একেকজন ২০০-৩০০ লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন এবং শত শত আইনজীবীকে নিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য।”

নির্বাচন কমিশনও এ ধরনের প্রার্থীদের নানাভাবে পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের মধ্যেও নানা ধরনের যুক্তিতর্ক, নানা ধরনের ফাঁকফোকর দিয়ে তাদেরকে বৈধতাদানের এক ধরনের প্রবণতা দেখতে পাই, যেটা আমাদের দেশের জন্য, আমাদের সংবিধানের জন্য, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য এবং সর্বোপরি জনগণের জন্য অশনি সংকেত।”

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া অনেক বিএনপি নেতারও সমালোচনা করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “বিএনপি নিজেদের গণতন্ত্রের ধারক-বাহক এবং অগ্রদূত বলে আসছে, কিন্তু তারা ‘১৮০ ডিগ্রি টার্ন নিয়ে’ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, দেশের সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।”

আসিফের অভিযোগ, “যে ‘লুটেরা শ্রেণি’ লুট করে বিদেশে বাড়িঘর করেছে, সম্পদের পাহাড় গড়েছে, তারা আবারো জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য দেশে এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ‘পায়তারা করছে’।

“আমরা কোনো বিদেশী নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচন করতে দেব না। যদি নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করার, কিংবা কোনো ধরনের ইন্টারপ্রেটেশনের মাধ্যমে তাদেরকে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে প্রার্থিতা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা আইনি লড়াই লড়ব এবং একই সঙ্গে রাজপথেও নামব।”

নির্বাচন কমিশনের এমন ‘একপাক্ষিক অবস্থান’ প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায় থেকে দেখা যাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আগামীকাল আবার এফিডেভিটের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশের নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার যেসব কথা আমরা শুনেছি, তারপরে আমরা তাদেরকে (ইসি) আর কোনো ধরনের সুযোগ দেব না।

“আগামীকাল যদি আমরা দেখি, কোনো ঋণ খেলাপি বা কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কেউ নির্বাচন করার যোগ্যতা পাচ্ছেন, সেটা যে শর্তেই হোক, যেই ইন্টারপ্রেটেশনের মধ্য দিয়েই হোক, আমরা সেটার বিরুদ্ধে রাজপথে নামব।”

জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া আসিফ বলেন, “আমরা কোনোভাবেই এই নির্বাচন কমিশনকে পূর্ববর্তী তিনটি নির্বাচন কমিশনের মত একটা দায়সারা নির্বাচন এবং একপাক্ষিক নির্বাচন বা সেটেলড নির্বাচন আয়োজন করার সুযোগ দিব না। এনসিপি তাদের জোট শরিকদেরকে নিয়ে বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি ডিল করবে।”

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, “আজ বিএনপির ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আমাদের লিগ্যাল টিমের সদস্যদের ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে গালি দিয়েছেন। তো আমরা এটাকে গালি হিসেবে নিচ্ছি না, আমরা মনে করি, আমরা ‘ব্লাডি সিটিজেন’। আমরা এই বাংলাদেশের ‘ব্লাডি নাগরিক’, কিন্তু আমরা ‘ব্লাডি ফরেইনার’ নই।

“আপনাদের মতো ‘ব্লাডি ফরেইনারদের’ বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের এবং জনপ্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই। বাংলাদেশের একটা উদীয়মান দল হিসেবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে আমরা কোনোভাবেই আপনাদের সেই সুযোগ দিব না।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এনসিপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজপথে অনেক আগেই আন্দোলন করেছে। নির্বাচন কমিশন অবরোধও করা হয়েছিল। আমরা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম। আবার প্রয়োজন হলে রাজপথে নামব। আমরা কোনোভাবেই একটা যাচ্ছেতাই নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দিব না।

“যদি প্রয়োজন হয় নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে, কিছুদিন দেরি করে হলেও একটা সুষ্ঠু নির্বাচন…যেনতেন একটা নির্বাচন আয়োজনের চেয়ে সময় নিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই থাকবে আমাদের মূল প্রাইরোরিটি।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে ইসির সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ের ‘ঘাটতি রয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি সরকারের একটা পার্ট ছিলাম। কিন্তু পুরো সরকারের সঙ্গে নির্বাচনের কমিশনের সেই কোঅর্ডিনেশনটা আমি সরকারে থাকতেও দেখি নাই এবং এটাও একটা দুঃখজনক বিষয়।”

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দল আন্দোলনে যেতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের রাজনৈতিক দাবি জানাতেই পারি। নির্বাচন কমিশন যেমন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সে যদি তার স্বাধীনতার অপব্যবহার করে, যৌক্তিকভাবেই আমাদের দাবি উত্থাপন করতে পারি। আমরা আগেও করেছি, ভবিষ্যতে করতেও পিছপা হব না।”

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com