বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ইরান যুদ্ধকে ‘ভুল’ বললেন যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে কিন্তু স্বৈরাচারের ভূত রয়ে গেছে : প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ অবরোধের মুখে উপসাগরীয় বন্দরগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে : ইরানি মুখপাত্র ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ।। ‘প্রাইমারি’ ছাড়িয়ে ‘টেকনিক্যাল’ পর্যায়ে প্রবেশ ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে সংসদে বিরোধীদলের ওয়াকআউট হামে আরও ৭ জনের মৃত্যু পাকিস্তানি বাহিনীর ৩ দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস আবু সাঈদ হত্যা ।। ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হামের লক্ষণ নিয়ে একদিনে আরো ১০ মৃত্যু

পাকিস্তানি বাহিনীর ৩ দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ দেখা হয়েছে
ফাইল ফটো।

বাংলা হেডলাইনস: মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

এতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আপত্তি তুললেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) লিখিতভাবে স্পিকারকে জানিয়েছে, বিলটি নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমদ আজম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল, ২০২৬’ অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব তোলেন। পরে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়। দফাওয়ারি অনুমোদনের পর বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

সংসদে আপত্তি জানানোর সুযোগ পেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তবে তিনি বিলের নির্দিষ্ট কোনো ধারায় সংশোধনী প্রস্তাব তোলেননি।

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর স্পিকার বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল নিয়ে এনসিপির কোনো আপত্তি নেই। দলটি লিখিতভাবে অনাপত্তি দিয়েছে। সংসদের নজরে আনতেও অনুরোধ করেছে।

এরপর মন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন এবং অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব দেন এবং কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়। পরে সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে বিলটি পাস হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ অধ্যাদেশে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীর’ সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রাখা হয়েছিল।

অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাস করার সুপারিশ করেছিল সংসদের বিশেষ কমিটি। ওই কমিটির প্রতিবেদনে জামায়াতের সদস্যরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলেন। সংসদে শফিকুর রহমানের বক্তব্যেও সেই আপত্তির প্রতিফলন দেখা যায়।

আপত্তিতে যা বললেন শফিকুর

বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্যের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মানুষ চেয়েছিল একটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটা হয়েছে।

তার ভাষায়, জনগণের রায় অস্বীকারের কারণেই যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল, স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীনরা সেই শিক্ষাও ধরে রাখতে পারেনি। এক পর্যায়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়।

“এই সংসদ মাত্র সাত মিনিট আলোচনা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল এবং একদলীয় বাকশালের জন্ম দিয়েছিল।”

তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে দেশের তখনকার সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

“এমনকি আওয়ামী লীগ এতটা বেপরোয়া হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ নামে তারা নির্বাচন করে ১৯৭০ এবং ১৯৭৩ সালে ক্ষমতায় আসলো, তারা স্বয়ং আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করল।”

জামায়াতের আমির বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং বর্তমান সংসদও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

বিলের মূল আপত্তির জায়গা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরের সরকার, জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার সরকার কেউই আইনের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলগুলোর নাম এভাবে আনেনি। তার ভাষায়, বিষয়টি প্রথমে শেখ হাসিনার আমলে এসেছে, পরে অন্তর্বর্তী সরকারও ‘সামান্য পরিবর্তনসহ’ সেই ধারাবাহিকতা রেখেছে।

শফিকুর বলেন, বর্তমান উপস্থাপনায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম আনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, ’৭১ সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী, আমরা বাকিরা আংশিক সাক্ষী।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতি দায়দরদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করুক।

“আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।”

স্পিকার পরে বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা কার্যত নির্দিষ্ট কোনো আপত্তি তোলেননি, বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর তিনি মন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের আহ্বান জানান।

বিলে কী থাকছে

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২ সংশোধন করে আনা এই বিলে মুক্তিযুদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী পরিবারের সংজ্ঞা নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

প্রস্তাবনায় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র জায়গায় ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ বাস্তবায়নের কথা আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশাপাশি ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী পরিবার’কেও আইনের আওতায় যুক্ত করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে সংজ্ঞার অংশে। সেখানে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ বলতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের বোঝানো হয়েছে।

সহযোগী শক্তির তালিকায় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসের পাশাপাশি তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, দালাল ও শান্তি কমিটির নাম রাখা হয়েছে।

একইভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধই মুক্তিযুদ্ধ।

নতুন করে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ এর আলাদা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রাখা বাংলাদেশি পেশাজীবী, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডাক্তার, নার্স ও সহকারী, গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য এমএনএ ও এমপিএ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলী, মুক্তিযুদ্ধের প ক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিক এবং স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া কাউন্সিলের গঠন, উপদেষ্টা পরিষদ, সংগঠন বাতিল বা অবলুপ্ত হলে প্রশাসক বা অ্যাডহক কমিটি গঠন, তহবিল, ঋণ গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্ষমতার ক্ষেত্রেও ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ ও তাদের পরিবারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।

২০২৫ সালের অধ্যাদেশ রহিত হবে

বিলে ২০২৫ সালের ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ রহিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে আগে করা কাজ বা গৃহীত ব্যবস্থাকে নতুন আইনের অধীন ‘কৃত বা গৃহীত’ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে বলে তুলে ধরা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ যাচাই বাছাইয়ে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন জামায়াতের সদস্যরা।

সংসদে উপস্থাপন করা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান অবস্থায় বিলটি পাস হলে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির মতো বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী শক্তি হিসেবে আইনে বহাল রাখা হবে, যা জামায়াতের সদস্যদের মতে যুক্তিযুক্ত নয়। তাদের আপত্তির কেন্দ্রেও ছিল ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ’ এর সংজ্ঞাও।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com