বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে কিন্তু স্বৈরাচারের ভূত রয়ে গেছে : প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ অবরোধের মুখে উপসাগরীয় বন্দরগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে : ইরানি মুখপাত্র ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ।। ‘প্রাইমারি’ ছাড়িয়ে ‘টেকনিক্যাল’ পর্যায়ে প্রবেশ ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে সংসদে বিরোধীদলের ওয়াকআউট হামে আরও ৭ জনের মৃত্যু পাকিস্তানি বাহিনীর ৩ দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস আবু সাঈদ হত্যা ।। ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হামের লক্ষণ নিয়ে একদিনে আরো ১০ মৃত্যু হরমুজ খুলতে রাজি ইরান, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে সংসদে বিরোধীদলের ওয়াকআউট

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: জাতীয় সংসদে ‘বিশেষ কমিটির সমঝোতা ভঙ্গ’ ও ‘স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে’ প্রশ্ন তুলে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটের দিকে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

বিরোধী দলের অভিযোগ, সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশ নিয়ে যে সমঝোতায় পৌঁছেছিল, সরকার তা ‘মানেনি’। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল হুবহু পাসের সুপারিশ থাকার পরও অধিবেশনে ৮ ধারায় তিনটি সংশোধনী এনে তা সংশোধিত আকারে পাস করা হয়।

অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬ সংশোধিত আকারে পাস হওয়ার অভিযোগ নিয়ে সরকারি দল, বিরোধীদল, চিফ হুইপ, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারের মধ্যে দীর্ঘ ‘বাক্যবিনিময়’ হয়।

ওয়াকআউটের সময় শফিকুর রহমান বলেন, “ইনশাল্লাহ আরো দেখা হবে, এখানেই দেখা হবে। তবে আজকের মত দুঃখ নিয়ে আমরা ওয়াকআউট করছি।”

এর আগে বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটিতে ৯৮টি অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল, যেগুলো হুবহু বিল আকারে সংসদে আসবে এবং পাস হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিলও সেই ৯৮টির একটি ছিল।

“ওই সমঝোতার কারণেই বিরোধীদল ওইসব বিলে আপত্তি বা সংশোধনী দেয়নি। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল পাসের আগে আধা ঘণ্টা আগে সংশোধনী এনে তা পাস করানো হয়েছে, যা রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ এবং ‘কনসেনসাস’ (ঐকমত্য) ভঙ্গ।”

বিরোধীদলের চিফ হুইপের অভিযোগ, “দিনদুপুরে একটা ছলচাতুরি জোচ্চুরির মাধ্যমে বিল সংশোধনীসহ পাস করে নেওয়া হয়েছে। সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তারা চাইলে যেকোনো আইন পাস করতে পারে, কিন্তু বিরোধীদলের ভূমিকা যদি শুধু হাত তোলায় সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সংসদে থাকার অর্থ থাকে না।”

জাদুঘর বিলের ৮ ধারার সংশোধনী নিয়ে নাহিদ আপত্তি তুলে বলেন, “আগের খসড়ায় সরকার মনোনীত একজন বিশেষজ্ঞ পর্ষদের প্রধান হওয়ার কথা ছিল। সেটি বদলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে পর্ষদের সভাপতি করা হয়েছে। এটি শুধু প্রচলিত রেওয়াজ ভঙ্গ নয়, সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করার সরকারের প্রবণতারই ধারাবাহিকতা।

“শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, নজরুল একাডেমি বা জাতীয় জাদুঘরের মতো প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞদের ভূমিকার রেওয়াজ আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরও একটি স্বতন্ত্র, বিশেষায়িত জাদুঘর হওয়ায় সেটির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে রাখা উচিত ছিল।”

এ ছাড়া সরকারকে যেকোনো সদস্য সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার সংশোধনী নিয়েও আপত্তি তোলে বিরোধীদল।

বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিশেষ কমিটিতে যে সমঝোতা হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। তবে সংশোধনীটি সরকার আগে থেকে আনেনি। একজন সদস্য তা এনেছেন এবং অধিবেশনে এসেই তারা বিষয়টি দেখেছেন।

মন্ত্রী বলেন, “এখানে মূল বিলে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, কেবল ‘দুয়েকটা জায়গায়’ সিদ্ধান্ত ও শব্দের পরিবর্তন এসেছে। মন্ত্রণালয়ের অধীন যেকোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারই জনগণের পক্ষে কাজ করে। কাজেই দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সভাপতির দায়িত্ব নিলে তাতে ‘মহাভারত অশুদ্ধ’ হওয়ার কিছু নেই।”

স্পিকারের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বিশেষ কমিটির সমঝোতার ভিত্তিতেই বিলটি উত্থাপন করা হয়েছে। পরে একজন প্রাইভেট মেম্বার সংশোধনী দিয়েছেন, সেটি সংসদ বিবেচনা করে পাস করেছে।

তার ভাষায়, “এটা সরকারের পক্ষ থেকে আনা সংশোধনী না, প্রাইভেট মেম্বারের রাইট।”

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “৮ ধারার ৩ উপধারায় সংশোধনী আনার যুক্তি ছিল যে, আগে গঠিত কমিটির সদস্যরা যদি পরবর্তীতে দুর্নীতি, অপরাধ বা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ান, তাহলে তাদের সরানোর ক্ষমতা আইনে রাখা হয়নি। সেই ‘ছোট্ট সংশোধনী’ আনা হয়েছে জনস্বার্থে।

“বিরোধী দলের আপত্তির জায়গা থাকলে ভবিষ্যতে এ বিল আবারও সংশোধন আকারে সংসদে আনা যেতে পারে। ফোরাম ইজ ওপেন।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরে বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন, “জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে জীবন্ত জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা সরকারের আছে। এখানে ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নানা ইতিহাস ধারণ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন করা হবে।

“এটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে রাখার মতো প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে এবং বিরোধী দলের পরামর্শগুলোও ভবিষ্যতে বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব।”

জাদুঘর বিলের বিতর্কের পাশাপাশি বাকি অধ্যাদেশগুলোর কী হবে, সেই প্রশ্নও তোলে বিরোধীদল।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “যদি কিছু অধ্যাদেশ সংসদে না এসে ‘ল্যাপ্স’ করে, তাহলে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অমীমাংসিত থেকে যাবে। তিনি পুলিশ সংস্কার কমিশন, গুম কমিশন, দুদক এবং তামাকবিষয়ক আইনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান।

এর জবাবে স্পিকার বলেন, “একটি মাত্র বিল বাকি আছে এবং এর আগের ৯০টি বিল পাসে সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে যে সহযোগিতার পরিবেশ দেখা গেছে, তা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল।

“মতপার্থক্য গণতন্ত্রেরই অংশ, আর বিরোধীদলের আপত্তি নিয়ে সরকার পুনর্বিবেচনা করতে রাজি আছে।”

পরে আইনমন্ত্রী বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনের ৪৬ নম্বর পৃষ্ঠার কথা তুলে ধরে বলেন, “সেখানে ১৬টি অধ্যাদেশের তালিকা দেওয়া আছে, যেগুলো এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে আরও যাচাই-বাছাই করে পরে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

“মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, বিচারক নিয়োগ আইনসহ যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিরোধীদল কথা বলছে, সেগুলো আলোচনার বাইরে থাকছে না; বরং আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যতে আবার আনা হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেন, আগামী অধিবেশনে সবগুলো বিলই আবার আসবে এবং তখন আলোচনার সুযোগ থাকবে।

এতেও বিরোধীদলীয় নেতা সন্তুষ্ট হননি। জামায়াত আমির বলেন, বিশেষ কমিটি ও কার্য উপদেষ্টা কমিটির আলোচনার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ায় ‘ট্রাস্ট’ বা আস্থার জায়গা নষ্ট হয়েছে। বিরোধীদল সহযোগিতা করছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে দেখছে তাদের ‘ব্ল্যাক আউট’ করে দেওয়া হচ্ছে।

একপর্যায়ে স্পিকার তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আজ (শুক্রবার) যদি কিছু ‘ল্যাপ্সও’ করে, ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ থাকলে সেগুলো নতুন বিল আকারে আবার আনা সম্ভব।”

শেষ পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতা আবার আস্থা হারানোর কথা তুলে ধরে বলেন, “আজকের মত দুঃখ নিয়ে আমরা ওয়াকআউট করছি।”

এরপর বিরোধীদলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com