বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’: সংসদে প্রশ্ন আজহারের ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বসার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ‘পা কেটে নেওয়ার’ অভিযোগ

১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’: সংসদে প্রশ্ন আজহারের

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ দেখা হয়েছে


বাংলা হেডলাইনস: বিএনপি ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েও কীভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’ হতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলে জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধা আছে, এটা আপনি বলতে পারেন। তদ্রুপ জামায়াতে ইসলামীতেও মুক্তিযোদ্ধা আছে।”
বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা হয়। বিএনপি দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের দল। অথচ বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর, আর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ’৭১ সালে। মুক্তিযুদ্ধের দল কীভাবে বিএনপি হতে পারে?”
এ নিয়ে সমালোচনার সুরে কথা বললেও তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলটির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেন।
জিয়াকে স্মরণ করে আজহার বলেন, তিনি তিন কারণে স্মরণীয় থাকবেন। তার দাবি, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, ঐক্যের রাজনীতি করেছেন এবং আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।
“তার সাতই নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আধিপত্যবাদমুক্ত হয়।”
খালেদা জিয়াকে নিয়েও ইতিবাচক কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। বলেন, তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এবং ঐক্যের রাজনীতি করেছেন।
অপরদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আজাহারুল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জানানোর প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি তোলেন।
তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ দেব কীভাবে? এই প্রেসিডেন্ট কে? তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। আওয়ামী লীগকে আমরা ফ্যাসিস্ট বলছি, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হওয়ার সুযোগ কিভাবে পেল?
“সেই আওয়ামী লীগের তৈরি করা ফ্যাসিস্টের প্রেসিডেন্ট এবং সেই আওয়ামী লীগ যে ভারতীয় আধিপত্যের দোসর ছিল, সেই প্রেসিডেন্টকে আমি কীভাবে সমর্থন করতে পারি?”
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, দলটি বড় রাজনৈতিক দল, তাদের নারী নেত্রীরা রাজপথে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মহিলা আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনা তাকে বিস্মিত করেছে।
“এটা কি আপনাদের দৈন্যতার কারণে? নাকি আপনারা কোনো শক্তিকে খুশি করতে চান, তাদের সহযোগিতায় ক্ষমতায় থাকতে চান?”
এ প্রশ্নের জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে, যোগ করেন তিনি।
সরকারি দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে আজহারুল বলেন, এমপিরাও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।
“আজকে আমাদের এমপিরা স্বাধীনভাবে চলতে পারছি না। আজকে আমাদের এমপি থেকে আক্রমণ করা হচ্ছে। অনেক কর্মীদেরকে আক্রমণ করা হচ্ছে।”
নিজের এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার এলাকায় সরকারি কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে বিএনপির কর্মীদের দ্বারা কর্মী লাঞ্ছিত হয়েছে। এখনো ভয় দেখানো হচ্ছে।”
রসিকতার ভঙ্গিতে তিনি বলেন, অনেকে এখন ‘নিরাপত্তা কার্ড’ এর ব্যবস্থার কথা বলছেন।
এসময় আজহারুল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ করে গত ১৬ বছরে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার আর কেউ হয়নি দাবি করে বলেন, “আর কোনো দলের প্রধান নেতা থেকে আরম্ভ করে সেক্রেটারি জেনারেল থেকে আরম্ভ করে ১১ জন নেতাকে জেলখানায় ফাঁসি দিয়ে এবং বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়নি।
“ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, দেশ তো ছাড়েন নাই।”
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, একদিকে ঐক্যের কথা বলা হচ্ছে, আবার এমন কথাও বলা হচ্ছে, যাতে ঐক্য নষ্ট হয়।
দলের সাবেক আমির ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াত নেতারা গ্রেপ্তার থাকার সময় খালেদা জিয়া তাদের মুক্তির দাবি তুলেছিলেন বলে সংসদে তুলে ধরেন আজহারুল।
তিনি বলেন, “তাহলে কী আপনি বলবেন, উনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে বা দলগুলো, লোকগুলার মুক্তির আন্দোলন করেছিলেন? কারণ উনি ঐক্যের রাজনীতি চেয়েছেন।”
দেশ গঠন করতে হলে বিভক্ত রাজনীতির মাধ্যমে তা সম্ভব নয় বলে তুলে ধরেন তিনি।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com