বাংলা হেডলাইনস: প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার সবকটিতে বিএনপি সরকার ‘নিদারুণভাবে ব্যর্থ’ হয়েছে বলে মনে করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গঠিত বিএনপি সরকারের ছয় মাস নিয়ে এ মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই গেল ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকার ১৮০ দিনের জন্য তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিল—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
“ছয় মাস পর তথ্য-উপাত্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা গেছে, এই তিনটি অগ্রাধিকারের প্রতিটিতেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”
সোমবার দুপুরে ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
লিখিত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা এবং অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।”
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে কল-কারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছে। কৃষককে উচ্চমূল্যে সার কিনতে হচ্ছে।
“জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নজিরবিহীন সংকট শিল্প উৎপাদন, কৃষিখাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকিং খাতের লুটেরারা পুনরায় ফেরত আসছে। ভোগ্যপণ্য ও আমদানি বাজারে পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে এবং বিএনপি তাতে নতুন অংশীদার হিসাবে যুক্ত হচ্ছে।”
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, “৫ মাস দুদকের নিষ্ক্রিয়তা ও লুটেরা এবং বাজার সিন্ডিকেটের প্রত্যাবর্তন একইসূত্রে গাঁথা বলে আমরা মনে করি।”
আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গত ১৯ অগাস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। তার পূর্বসূরি মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করেন।
বিএনপি সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সংস্কারগুলো যেমন: মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়—একে একে বাতিল করা হয়েছে। এসবের জায়গায় আগের চেয়ে দুর্বল ও অকার্যকর আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।
এনসিপির ভাষ্য, বিএনপির বহুল প্রচারিত ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারকে ‘ছুঁড়ে ফেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে নির্লজ্জ দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে’।
জুলাই আন্দোলনের বিচার নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল এনসিপি।
তাদের ভাষ্য, সরকার নির্ধারিত অগ্রাধিকার নীতিতে বিচার ও শহীদ পরিবার-আহতদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন অনুপস্থিত রয়েছে। বিরোধী দল ও সাংবাদিকদের ওপর সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার ঘটনা অব্যাহতভাবে বাড়ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশকে আবার দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।