বাংলা হেডলাইনস: গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিলের ঘটনায় ভারতের সঙ্গে বিএনপি সরকারের আঁতাত আছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, সেরকম কোনো কিছু সরকার বাস্তবায়ন করতে গেলে, জনগণ তা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
রোববার দুপুরে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছিলেনি তিনি।
দ্বিতীয় দফা লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসায় ১১ দলীয় ঐক্যের এ বৈঠক হয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর দ্বিতীয় দফা লংমার্চের কর্মসূচি তুলে ধরেন জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।
বিরোধী এ জোট গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারসহ ছয় দফা দাবিতে গেল ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করে।
আওয়ামী লীগের বিচার বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা আযাদ বলেন, “বিচার যতই বিলম্বিত করবেন, এই ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ততই ত্বরান্বিত হবে।”
জামায়াতের এই নেতা মনে করেন, সরকার ‘সেই রাস্তাটা উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন’।
তার দাবি, “না হলে গুলশানের মত জায়গায়, বিএনপির হেডকোয়ার্টার, বিএনপি প্রধানের নির্বাচনি এলাকা আসন, সে জায়গায় কীভাবে এতবড় মিছিল হয়? প্রত্যেকটি জেলায় মিছিল করেছে তারা (আওয়ামী লীগ)। সরকারের কি কোনো গোয়েন্দা বাহিনী নাই? কোনো মন্ত্রণালয় নাই? মন্ত্রী নাই? সরকারের কর্মকর্তারা নাই? ওনারা কি ঘুমিয়েছেন, না জেগে ঘুমিয়েছেন?
“আর যদি এটা আঁতাতের রাজনীতি হয়, আপনি এমনি বলবেন যে আমরা ভারতে যাওয়ার সহায়ক পরিবেশ তৈরি করলে যাব, না হলে যাব না। আবার যদি আপনি ওখানকার সাথে আঁতাত বা কি আন্ডারস্ট্যান্ডিং আপনাদের আছে, আমরা জানি না। জাতি অবশ্য জানতে চায়।”
“সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নের দিকে যান, তাইলে আপনি বুঝে নেবেন প্রস্তুত রয়েছে।”
শুক্রবার দুপুরে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ’ লোকের অংশগ্রহণে একটি মিছিল হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ বলেছে, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।
গ্যাস সংকট, সার সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোনো বিষয়ে ক্রাইসিস হলে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জায়গায় (সরকার) যে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে বারবার, এটা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।
“এই গ্যাসের যে ইম্প্যাক্ট অর্থনীতিতে এবং সারের যে সংকট দেখা দিয়েছে এর মধ্যে সেটাও কৃষকের মধ্যে, যদি উৎপাদন ব্যাহত হয় তো বাংলাদেশে খাদ্য সংকট তৈরি হবে।”
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল হয়েছে দাবি করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এ নিয়ে সরকারি দল সংসদে কথা বলতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, “জনগণ যেটা চায়, বিরোধী দল সেটাই করছে। বিরোধী দলের প্রতি জনগণের আস্থাটা বেড়েছে, এটা আমাদের অ্যাচিভমেন্ট। কারণ রাস্তার মানুষই এটার প্রমাণ। আর সরকার বক্তব্য যেটা দিয়েছে, এই সংকট আগের সরকারের ধারাবাহিকতা। কিন্তু এই সরকার কী করেছে ছয় মাসে।”
জোটের নেতা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বৈঠকে আসন্ন রংপুর লং মার্চের বিষয়ে দাবিনামা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন নেতারা।
কীভাবে লং মার্চ বাস্তবায়ন করা হবে, এ নিয়েও আলোচনা হয় বলে তুলে ধরেন তিনি।