বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের আইনজীবীরা ভার্চুয়াল আদালতে অংশ নেবেন না। বেশিরভাগ আইনজীবী তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার প্রস্তুত নন।
এজন্য ভার্চুয়াল পদ্ধতি বাদ দিয়ে অন্য কোন বিকল্প উপায়ে আদালত পরিচালনার পক্ষে মত দেন অধিকাংশ আইনজীবী। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অন্য কোন বিকল্প উপায়ে আদালত চালুর দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার বর্ধিত সভা আহ্বান করেছেন আইনজীবীরা।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আইনজীবীরা ভার্চুয়াল আদালত চালুর বিপক্ষে মত প্রকাশ করেন।
তাদের বক্তব্য, বেশির ভাগ আইনজীবী তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রস্তুত নন। ভার্চুয়াল আদালতে নথিপত্র স্ক্যান করে আদালত এবং অপরপক্ষের আইনজীবীকে পাঠাতে হবে। তাই আইনজীবীদের ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিতে তথ্য প্রজুক্তিগত অনেক ঝামেলায় পড়তে হবে।
ভার্চুয়াল আদালত বাদ দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অন্য কোন বিকল্প পন্থায় আদালত পরিচালনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল জায়গায় দাবি জানিয়ে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উল্লখ্য যে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে আদালতে ভার্চুয়ালি কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। রোববার (১০ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, অধস্তন আদালতে শুধু ভার্চুয়ালি জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি হবে। যোগাযোগের জন্য প্রত্যেক আদালতের একটি ই-মেইল আইডি ও নিজস্ব ফোন নম্বর থাকবে, যা আইনজীবী সমিতিকে সরবরাহ করতে হবে।
জামিন শুনানির জন্য দালিলিক কাগজাদি এবং ওকালতনামা আদালতের নির্ধারিত ই-মেইল আইডিতে ই-ফাইলিং এর মাধ্যমে জামিনের আবেদন দাখিল করতে পারবেন।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানি আদালত চলাকালে অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি গ্রহণ, শুনানির তারিখ ও সময় অনলাইন প্লাটফর্মে ব্যবহৃত হবে ও কজলিস্টের পোর্টালে থাকবে। যা মোবাইলে ও ই-মেইলের মাধ্যমে উভয়পক্ষের কৌশলীকে অবহিত করতে হবে।
গৃহীত আবেদনের ওপর একটি ভিডিও কনফারেন্সিং কেস নং (ভিসি কেস নং) ব্যবহৃত হবে এবং পরবর্তীতে সব প্রয়োজনে এই নম্বর ব্যবহৃত হবে। আবেদন গৃহীত হওয়ার পর আবেদনকারী অথবা তার আইনজীবী আদালতে ও প্রতিপক্ষের ই-মেইলে ২৪ ঘণ্টা আগে ইমেজ আকারে ১০ এমবির মধ্যে পাঠানো হবে।
আদালত কর্তৃক নির্ধারিত ভিডিও কনফারনেসিং প্লাটফর্ম জুম, গুগল মিট বা মাইক্রোসফট টিম ব্যবহার করে উভয়পক্ষের আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেবেন। শুনানির ১৫ আগে আইনজীবী ও প্রয়োজনে তার সহায়ক আইনজীবী আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিবেন।
শুনানি কালে স্ক্রিন শেয়ার অপশন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট শেয়ার করতে হবে এবং মামলা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংযুক্তি আকারে আদালতে ই-মেইলে পাঠাতে হবে, যার একটি কপি প্রতিপক্ষেরআইনজীবীকেও দিতে হবে।
শুনানির ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব না হলে ই-মেইলে ও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে উভয়পক্ষের আইনজীবীকে জানাতে হবে। জামিন হলে বন্ড ও রিলিজ অর্ডার পূরণ করে স্ক্যানকপি আদালতের ই-মেইলে পাঠাতে হবে।