বাংলা হেডলাইনস খুলনা: খুলনার খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামে নির্বিচারে গুলি করে তিনজনকে হত্যা মামলার প্রধান আসামী বহিস্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ জাকারিয়া, তার ভাই মিল্টন ও আরেক আসামী রাজুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ শনিবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (নং-৩) বিচারক শাহীদুল ইসলাম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক মো. এনামুল হক দশদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন।
এনামুল হক জানান, গত ১৬ জুলাই নগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী এলাকায় তিন জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর শেখ জাকারিয়া, তার ভাই মিল্টন ও আরেক আসামী রাজু আত্মগোপন করে।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর এলাকার ১৮ তলা একটি ভবন থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে খুলনা মহানগর ডিবি পুলিশ।
তাদেরকে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা কারা জড়িত ছিল সে সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিলো। আদালত প্রত্যেককে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
উল্লেখ্য, মশিয়ালী গ্রামের একটি মসজিদ কমিটির মেয়াদ শেষ হলে সভাপতির পদ থেকে শেখ জাকরিয়াকে পদত্যাগ করতে বলে মিল শ্রমিক মুজিবরসহ মসজিদের মুসল্লিরা। সকলের দাবীর মুখে বাধ্য হয়ে পদ থেকে সরে দাড়াতে সম্মত হয়ে ১৭ জুলাই জুম্মার নামাজের পর পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু এর আগে ১৬ জুলাই বিকালে জাকারিয়া ও তার ভাইয়েরা অস্ত্র দিয়ে মিল শ্রমিক মুজিবরকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদী এলাকাবাসীর উপর জাকারিয়া-জাফরিন-মিল্টন বাহিনী নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় মশিয়ালী গ্রামের মৃত বারিক শেখের ছেলে মো, নজরুল ইসলাম (৬০), একই এলাকার মো. ইউনুছ আলীর ছেলে গোলাম রসুল (৩০) এবং পরে গুলিবিদ্ধ এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে আটরা মেট্রো টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র সাইফুল ইসলাম (২২) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে আফসার শেখ, শামিম, রবি, খলিলুর রহমান, মশিয়ার রহমানসহ বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অপরদিকে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে জাকারিয়ার চাচাতো ভাই জিহাদ শেখ নিহত হন।