বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ায় শাশুড়ির শতকোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা ও তার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম মন্টু এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের জুডিশিয়াল পেশকার আনোয়ার হোসেন ও এজাহার সূত্র জানায়, বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় মরহুম সেখ সরিফ উদ্দিনের স্ত্রী দেলওয়ারা বেগম গত ১ অক্টোবর রাতে সদর থানায় জামাই রানা, মেয়ে সুলতানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তিন ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম, হাফিজার রহমান ও তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত ৫ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ড করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব নেন সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির।
গত ১১ অক্টোবর রানা ও তার স্ত্রী উচ্চ আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্টে হাজির হতে বলেন।
বগুড়া সদর থানায় এজাহার ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগে দেলওয়ারা বেগম উল্লেখ করেন, তার মরহুম স্বামী সেখ সরিফ উদ্দিন শহরের কাটনাপাড়া এলাকায় সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরী প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৮৬ সালে তার মৃত্যু হলে দেলওয়ারা বেগম শহরের নওয়াববাড়ি এলাকায় অবস্থিত বহুতল মার্কেট ‘দেলওয়ারা- সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট’ কিনে নেন। এরপর তিনি সরিফ সিএনজি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন।
দেলওয়ারা বেগম এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার পাঁচ মেয়ে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দেলওয়ারা বেগমের অপর চার মেয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ সুপারের কাছে আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকি প্রদানের লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এছাড়া জেলা প্রশাসকের কাছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহার ও সেসব দিয়ে হুমকি দেবার অভিযোগ করা হয়।
আনোয়ার হোসেন রানাকে সুযোগ সন্ধানী উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়, তিনি (রানা) দেলওয়ারা বেগমের বড় জামাতা সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন স্থানীয় ‘দৈনিক দূর্জয় বাংলা’ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন শাখার একজন কর্মী ছিলেন।
২০০৬ সালে সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী (দেলওয়ারা বেগমের বড় মেয়ে) আকিলা সরিফা সুলতানার দিকে চোখ পড়ে আনোয়ার হোসেন রানার।
নিজের স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি আকিলা সরিফা সুলতানাকে পালিয়ে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে সবার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
মামলার এজাহারে দেলওয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার বয়স এব অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে আনোয়ার হোসেন রানা এবং তার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানা তার মালিকানাধীন সব প্রতিষ্ঠানের দেখাশোনার দায়িত্ব মৌখিকভাবে গ্রহণ করেন।
সম্প্রতি দেলওয়ারা জানতে পারেন যে, আনোয়ার হোসেন রানা অন্য আসামীদের সহযোগিতায় বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংকে রাখা ৫০ কোটি টাকার এফডিআর এবং অন্যান্য ব্যাংকে রাখা আরও ৫০ কোটি টাকাসহ মোট ১০০কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।