বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এলাকায় কলোনীতে লাগা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন এক স্বামী স্ত্রীসহ চারজন পোশাক শ্রমিক ।
পুড়ে গেছে কলোনীর ৪৬টি ঘর। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো। যদিও কালিয়াকৈর ও জয়দেবপুরের ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতরা হলেন মুন্নি ও তার স্বামী মিলন, ফরহাদ ও আওয়াল। তাদের সবার বাড়ি গাইবান্ধায়।
গাইবান্ধার বাসিন্দা স্থানীয় পোশাক কারখানার অপারেটর রুম্পা বেগম।তিন সন্তান নিয়েই থাকতেন এই কলোনিতে। মাত্র এক ঘন্টার আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে ঘরে থাকা সবকিছু। ছোট্ট ঘরের দরিদ্র সংসারের কমপক্ষে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এমনিভাবে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নি:স্ব হয়ে গেছেন কলোনীর সবাই।
তারা বলছেন, সকালে ওই কলোনির নাসিমার গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দ হয় আর আগুন লাগে। মুহূর্তে গোটা কলোনিতে ছড়িয়ে যায়।
অথচ যার যার ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে বের হয়ে আসেন সবাই, তারা কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। যে চারজন মৃত্যুবরণ করেছে তারা নিজেদের মালামাল বের করার চেষ্টা করছিল। আর তাতেই আটকা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।
সোমবার ভোর ৬টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ওই কলোনির ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে কালিয়াকৈর পৌরসভা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।তাদেরকে খাদ্য সহায়তা ও শীতবস্ত্র দেয়া হচ্ছে।
তবে যে চারজন মালিকের টিনশেডের কলোনি আগুনে পুড়েছে তাদের কাউকেই দেখা যায়নি ঘটনাস্থলে। সিআইডির একটি দলও এসে নিহত হওয়ার স্থান থেকে আলামত সংগ্রহ করছে।
গ্যাস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে কলোনিবাসী দাবি করেছেন।
তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেও সূত্রপাত হতে পারে এমন ধারণা করে তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পাঠিয়ে দেয়া হবে গাইবান্ধার গ্রামের বাড়িতে।