বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ রাঙ্গামাটি শহরের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান রাজবন বিহার এলাকায় সংরক্ষণ ও খাদ্যাভাবে রয়েছে হাজারো বানর। তাদের সংরক্ষণের জন্য নেই কোন রকম উদ্যোগ। খাদ্যাভাবে রাজবন বিহার এলাকায় থাকা এসব হাজারো বানর প্রায় সময় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। খাদ্য চাহিদা পূরণে এসব বানর বিহার এলাকায় আসা মানুষের কাছ অনেক সময় যা পায় তাই খায় আবার খাবার না পেলে তারা বিহার এলাকায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে অনেক সময় খাবার কেড়ে নেয়।
রাজবন বিহার কর্তৃপক্ষ বলছেন রাঙ্গামাটি বৌদ্ধাধর্মালম্বীদের অন্যতম তীর্থ স্থান রাজবন বিহারের আশেপাশে থাকা এসব হাজার হাজার বানরের সংরক্ষণ ও তাদের খাদ্য চাহিদা পূরণে পদক্ষেপ নিতে বনবিভাগকে বলা হলে ও এখন পর্যন্ত বনবিভাগ কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহন করেনি। জীব বৈচিত্র রক্ষাসহ পরিবেশের সুরক্ষায় এসব বানরের সংরক্ষনে উদ্যোগ নিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সকলেই।বন বিহার কর্তৃপক্ষ ও এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী এখানে কত বানর রয়েছে তার কোন নির্দিষ্ট গণনা না থাকলে ও অনেকের ধারণা রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার এলাকায় রয়েছে হাজারের অধিক বানর। রাজবন বিহারের ধর্মীয় গুরু সত্যজিৎ ভিক্কু বলেন,বৌদ্ধাধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় গুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের জীবদ্দশায় এখানে এসব বানরের আগমন শুরু হয়। এসব বানরের সংরক্ষণ ও খাদ্য সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান তিনি। এ ব্যাপারে রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক রাঙ্গামাটি স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান বলেন, বিহার এলাকায় থাকা এসব বানরের সংরক্ষণের বিষয়ে বন বিভাগকে জানানো হলেও তারা বলেছেন এসব বানর সংরক্ষণে সেরকম এক্সপার্ট রাঙ্গামাটিতে নেই। এসব বানর সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহন করার চিন্তা ভাবনা চলছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি বন বিভাগের বন-সংরক্ষক মোঃ ছানাউল্ল্যাহ পাটওয়ারী বলেন, বর্তমানে বানরগুলো যেখানে আছে সেখানেই নিরাপদ রয়েছে। তবে এসব বানরগুলোর সংরক্ষণের বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে পর্যটন শহর রাঙ্গামাটির ঐতিহ্যবাহী এলাকা রাজবন বিহার সংলগ্ন এলাকায় থাকা এসব হাজার হাজার
বানরের সংরক্ষণ করা গেলে জীব-বৈচিত্র রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও স্থানটি আরো দর্শনীয় হয়ে উঠবে
বলে আশাবাদ সকলের। তাই সংরক্ষণ ও খাদ্যাভাবে জনসম্মুখে চলে আসা এসব বানরগুলোর স্থায়ী সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।