বগুড়া প্রতিনিধি-বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএস কোয়াটারগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় সেগুলো বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অরক্ষিত এসব কোয়ার্টার মাদকসেবী, জুয়াড়ি, চোর ও ছিনতাইকারিদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে কোয়ার্টারগুলো সংস্কারের মাধ্যমে বসবাসের উপযোগি করে বরাদ্দ দিতে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষিসেবা কৃষকদের দোর দোড়ায় পৌঁছে দিতে সোনাতলা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বিএস (উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের) কোয়াটার নির্মাণ করে। কৃষি বিভাগে কর্মরত বিএসরা ওই কোয়াটারগুলোতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। গত ১৫-১৬ বছর ধরে বিএসরা নানা কারণে ওইসব কোয়াটারে ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন। ফলে সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়ে। কেউ না থাকায় কোয়াটারগুলো সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও জুয়ারিদের আস্তানায় পরিণত হয়। সেখানে অপরাধীদের আনাগোনা থাকায় এলাকায় রাতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ভেলুরপাড়া চারমাথা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এনায়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে বিএস কোয়াটার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় তিন একর জমিতে চারটি কোয়াটার রয়েছে। পাশে আছে একটি বড় পুকুর। দেখার কেউ না থাকায় স্থানীয়রা সরকারি ওই পুকুর থেকে অবাধে মাটি উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছেন। বালুয়াহাটে বিএস কোয়াটার এলাকায় মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া পাকুল্যা এলাকার জনগণ জানিয়েছেন, বিএস কোয়াটারে কেউ বসবাস না করায় সেগুলোতে বিভিন্ন আগাছ জন্মেছে। দুর্বৃত্তরা দিনে সেখানে নেশা ও জুয়া খেলে আর রাতে আশপাশে চুরি, ছিনতাই করে থাকে। পাকুল্যা বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীর চর। এসব দুর্বৃত্তরা নেশা ও জুয়ার টাকার জন্য মাঝেমধ্যে রাতে চরবাসীদের উপর হামলা করে। তাদের সহায়-সম্বল ছিনিয়ে আনা হয়। তেকানীচুকাইনগর কাচারিবাজার এলাকায় গিয়ে বিএস কোয়াটারের ভিতরে ও বাহিরে জুয়াড়িদের আড্ডা দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ওইসব কোয়াটারে বসবাস করতেন। তারা স্বল্প সময়ে কৃষকদের যে কোন প্রয়োজনীয় সেবা দিতেন। আজ বিএসরা সেখানে না থাকায় কৃষকদের সেবা নিতে উপজেলা সদরে যেতে হয়। অনেক সময় তারা কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ আহম্মেদ জানান, ওই বিএস কোয়াটারগুলো বসবাসের অনুপোযোগী হওয়ায় কেউ থাকতে চায় না। পাশাপাশি এ আধুনিক যুগে সবাই গ্রাম ছেড়ে শহরমুখি হয়েছেন। সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বেশিরভাগ কর্মকর্তা শহরে থাকেন।তাই তারা ওইসব কোয়াটারে বসবাস করতে আগ্রহী নন। তিনি আরো জানান, কোয়াটারগুলো সংস্কার করতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী গাবতলীসহ কয়েকটি উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএসদের জন্য কোয়াটার নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আশা করেন, ওই প্রকল্পের আওতায় সোনাতলাতেও বিএসদের জন্য আধুনিক কোয়ার্টার নির্মাণ হবে।