সাজ্জাদুল তুহিন, বাংলা হেডলাইনস নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহারে রোগ থেকে রক্ষা পেতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম সংরক্ষণ করে অধিক মুনাফা অর্জন করছেন উপজেলার অনেক আম চাষি।
জানা গেছে, কীটনাশক, পোকামাকড় ও বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আম রক্ষা করতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি খুবই কার্যকর। ফ্রুট ব্যাগিং করার ফলে আম পোকামাকড় থেকে রক্ষা পায় এবং এতে আম বিষমুক্ত থাকে। শুধু গাছে সামান্য কীটনাশক স্প্রে করলেই হয়।
ফ্রুট ব্যাগিং বলতে গাছে থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ে বা বয়সে বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা ফলকে আবৃত করা হয়। ব্যাগিং করার পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত ব্যাগটি গাছেই ফলের সাথে লাগানো থাকে। তবে এই ব্যাগ বিভিন্ন ফলের জন্য বিভিন্ন রং এবং আকারের হয়ে থাকে।
আমের জন্য দুই ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। রঙিন আমের জন্য সাদা ব্যাগ আর অন্যান্য জাতের জন্য বাদামি রং এর ব্যাগ ব্যবহার করা হয়।
আমের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করার জন্য বর্তমানে বালাইনাশকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত স্প্রে যেমন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তেমনি আমের উৎপাদন ব্যয়ও বেশি। এই অবস্থায় আমে ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে বালাইনাশকের ব্যবহার ও খরচ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মনিরুজ্জামান জানান, চলতি বছরে এই উপজেলায় ৮ থেকে ১০ লাখ আম ফ্রুট ব্যাগ করা হয়েছে। ফ্রুট ব্যাগ মূলত আমের মাছি পোকার আক্রমণ ১০০% দমন করে এবং সঠিক সময়ে ব্যাগিং করলে ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনও সম্ভব হয়। আমের গায়ে কালো দাগ পড়ে না। আমের রঙ খুবই উজ্জ্বল হয়, ফলে ক্রেতা আকৃষ্ট হয়। ব্যাগিং করার কারণে বালাইনাশকের ব্যবহার শতকরা ৭০-৮০ ভাগ কমে যায়।
তিনি বলেন আম পাড়ার সময় নির্গত কষ থেকে ফলকে রক্ষা করা যায়। আমের সংগ্রহোত্তর সংরক্ষণকাল বাড়ানো যায়। আমকে বাইরের বিভিন্ন ধরণের আঘাত, ফল ফেটে যাওয়া, কাঠবিড়ালি, বাদুর, পাখির আক্রমণ, প্রখর সূর্যালোক হতে রক্ষা করা যায়। ব্যাগিং করা আমের গুণগত মান বজায় থাকে এবং স্বাদেও তেমন তারতম্য হয় না।