বাংলা হেডলাইনস কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে একদিনের বৃষ্টিতে ইটভাটা মালিকদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
ব্যাংক ও বিভিন্ন জনের কাছ থেকে আগাম অর্থ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লগ্নি করে ইটভাটা স্থাপন করে এখন পথে বসার যোগার হয়েছে বেশ কিছু ভাটা মালিকের। গত কয়েক বছর ধরে এসময় বৃষ্টি না হওয়ায় এবং গত বছর লাভবান হওয়ায় এবার দ্বিগুণ পরিমাণ কাচা ইট তৈরী করে পোড়ানোর জন্য মাঠে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
গত শুক্রবার ভোর থেকে সকালে এবং বিকেল থেকে রাতভর বৃষ্টিতে ইটভাটা মালিকদের স্বপ্ন বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে।
শনিবার সরজমিন জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় অবস্থিত এমএম ব্রিকসে গিয়ে দেখা যায় বেহাল অবস্থা। ইটভাটার চিমনির তিনদিকে ইউ প্যাটার্নে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ কাচা ইট সারিবদ্বভাবে প্রস্তত করে রাখা ছিল।
কিন্তু একদিনের বৃষ্টি ও বাতাসে সব নষ্ট হয়ে গেছে। গলে গেছে বেশির ভাগ ইট।
গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ভাটা মালিকরা পলিথিনের ব্যবস্থা না করায় বাঁচানো যায়নি একটি ইটও। ফলে জেলায় ১২০টি ইটভাটায় ৫ লক্ষ করে গড়ে প্রায় ৬ কোটি কাচা ইট বিনষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির মুখপাত্র লুৎফর রহমান বকসী জানিয়েছেন।
এম এম ব্রিকস’র মাঠ তত্ত্বাবধানকারী আহাম্মদ আলী জানান, হঠাৎ মনে করো বৃষ্টি হানা দিছে। পলিথিনেরও ব্যবস্থা নাই। মাঠোত যা ইট ছিল সউগ গলি গেইছে।
এমএম ব্রিকস’র ম্যানেজার আব্দুল মোত্তালেব সরকার জানান, এই ব্রিকস ফিল্ডে বৃষ্টির কারণে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ কাচা ইটের ক্ষতি হয়েছে। এতে এই প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। প্রতিদিন আমাদের চিমনী জ্বালানোর পিছনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এদিকে কাচা ইট বিনষ্ট হওয়ার ফলে আমরা ইটের যোগান দিতে না পেরে বাড়তি ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার কৃঞ্চপুর বকসী পাড়া এলাকার এলআরডি ব্রিকস এর কর্মচারী আয়নাল জানান, আমি এই প্রতিষ্ঠানে ১৩ বছর যাবৎ চাকরী করছি। আমার এই চাকরী জীবনে একদিনের বৃষ্টিতে এতবড় ক্ষতি কখনো দেখিনি। এমন ক্ষতি হয়েছে যে ভাটা মালিকরা পথে বসার যোগার হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদেরকে ভীষণ বেগ পেতে হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাবেক সেক্রেটারী ও বর্তমান মুখপাত্র মো. লুৎফর রহমান বকসী জানান, মাঘ মাসে হঠাৎ করে এ বৃষ্টিটা হওয়ায় কুড়িগ্রাম জেলার ১২০টি ইটভাটা মালিকের প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাচা ইটের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতিপুরণ তারা কিভাবে পুষিয়ে নেবে তা বুঝতে পারছি না। এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।