বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে চুরি ঠেকাতে ‘সিকিউরিটি ডোর সিস্টেম’ উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন। তিনি তার সিকিউরিটি ডিভাইসটি বাজারজাত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জানপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত জনাব আলী তালুকদারের ছেলে ব্যাংকার লুৎফর রহমান বর্তমানে পরিবার নিয়ে বগুড়া শহরের খান্দার এলাকায় বসবাস করছেন।
পেশায় ব্যাংকার হলেও তার মাঝে উদ্ভাবনী শক্তি প্রখর। সবসময় তিনি মানুষের কল্যাণে নতুন কিছু আবিস্কার তার নেশা। এবার উদ্ভাবন করেছেন, ‘সিকিউরিটি ডোর সিস্টেম’। ডিভাইসটি বাড়ি, অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দরজায় স্থাপন করলে সহজে কেউ এ দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। দরজার হাত দেওয়ার সাথে সাথে সাইরেন বাজবে ও মালিকের মোবাইল ফোনে চোর বা আততায়ীর ছবিসহ বার্তা পৌঁছে যাবে।
লুৎফর রহমান জানান, পরিচিত ও স্বজনদের বাড়িতে চোর ও দুর্বৃত্তদের হানা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তা প্রতিরোধে একটা ডিভাইস তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একবার ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকায় দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি ডিভাইস তৈরির কাজে হাত দেন।
দিনভর অফিস শেষে বাড়িতে পৌঁছার পর কাজ শুরু করেন। এ কাজে তাকে স্ত্রী ও সন্তানরা সার্বিক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিতে থাকেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে ডিভাইস তৈরি ও এর সফল পরীক্ষা শেষ করেন।
তিনি জানান, চুরি রোধে তার ডিভাইসটি বাসা, বাড়ি, ফ্লাট ও অফিসের ফটকে স্থাপন করা যাবে। এটি কোন ফ্লাট, বাড়ি, অফিসের দরজায় স্থাপন করা হলেও অন্য সকল সিকিউরিটি সামগ্রী হ্যাজবোল, তালা, অটোলক স্বাভাবিকভাবে লাগানো থাকবে।
চোর বা কোন দুর্বৃত্ত দরজায় আঘাত করলেই গোপনে বসানো স্পীকারে বিপদ সংকেত বেজে উঠবে। এছাড়া কোন ফ্লোরে ও কত নম্বর ফ্লাটে হানা দেওয়া হয়েছে তা সিগন্যাল লাইটের মাধ্যমে দেখা ও জানা যাবে। এ জন্য স্পিকার ও লাইটের একটা অংশ প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড রুমে থাকবে। চোর বা দুর্বৃত্ত দরজার তালা বা ব্যাজবল ভাঙার চেষ্টা করলে মালিকের কাছে থাকা মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিং হবে। ফোনটি রিসিভ করলে দরজার সামনে থাকা সকলের কথাবার্তা শোনা যাবে। এছাড়া দরজায় লাগানো গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের ছবিও দেখা যাবে।
ব্যাংকার লুৎফর রহমান আরো জানান, তার উদ্ভাবিত ‘সিকিউরিটি ডোর সিস্টেম’ রিমোট দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। রিমোট হারিয়ে গেলেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দরজা খোলা যাবে। রিমোট ও মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা হাতের কাছে না থাকলেও গোপন সিকিউরিটি সিস্টেমের মাধ্যমে দরজা খোলা যাবে।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দরজা আনলক করা যাবে। বাড়ির বাহিরে থাকলেও দূর থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও দরজা লক করা যাবে। চোর বা দুর্বৃত্তরা হানা দিলে সংকেত বেজে উঠবে। তখন আইন-শৃংখলা বাহিনীকে খবর দিয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার বা আটক করানো যাবে।
‘সিকিউরিটি ডোর সিস্টেম’ ডিভাইস তৈরির খরচ প্রসঙ্গে লুৎফর রহমান জানান, ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করলেই এটা সম্ভব। তিনি সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি নিয়ে আরো গবেষণা করতে চান। লুৎফর রহমান দেশবাসীর জান-মালের নিরাপত্তায় তার ডিভাইসটি ব্যবহারের সুযোগ দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন।