বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুষ্ঠানে বেলুন বিস্ফোরণ হয়ে পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন, কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনি, মোশাররফ হোসেন, জিল্লুর রহমান, ইমরান হোসেন ও রুবেল হোসেন।
দগ্ধ কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনির শ্বাসনালী ও এক কান পুড়ে গেছে। তিনি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। আবু হেনা রনির সঙ্গে দগ্ধ যুবক জিল্লুর রহমান (৩২)কেও আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তার শরীরের ১৯ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে, তারও শ্বাসনালী পুড়ে গেছে বলে জানান চিকিৎসক। দগ্ধ আবু হেনা রনি একাধারে কমেডিয়ান, অভিনেতা, উপস্থাপক ও মডেল। তিনি ২০১১ সালে ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার ‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার্স এ বিজয়ী হন।
বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় জিএমপি’র গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, গাজীপুর মহানগর পুলিশের ডিসি (উপ-কমিশনার, উত্তর) আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান, এডিসি (উত্তর) রেদোয়ান আহমেদ, এসি প্রসিকিউশন মো. ফাহিম আশজাদ ও গাজীপুর সদর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (মিডিয়া) মো. আবু সায়েম নয়ন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনস মাঠের অনুষ্ঠানে আবু হেনা রনি ছাড়া আরও চারজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে রনিসহ তিন জনকে বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়।
জিএমপি’রং চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছোলে তাকে উদ্বোধনী মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাতে বেশ কিছু বেলুন দেয়া হয় উড়িয়ে দেওয়ার জন্য।
কিন্তু বার বার চেষ্টা করেও সেই বেলুন উড়াতে ব্যর্থ হয়। পরে কয়েকজন সেই বেলুনগুলি মঞ্চের পাশে নিয়ে যায় এবং অন্যরা বেলুনে আগুন লাগিয়ে উড়ানোর চেষ্টার করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাশে বসে থাকা কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ ৫ জন দগ্ধ হয়ে নিচে লুটিয়ে পড়েন।
পরে আশপাশের পুলিশ সদস্যরা তাদের গায়ে পানি ঢেলে আগুন নেভায় এবং গাড়িতে করে দ্রুত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন।
পরে আবু হেনা রনিসহ তিন জনকে ঢাকার স্থানান্তর করা হয়।
জিএমপি’র কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নাগরিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আখতার হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।