বাংলা হেডলাইনস বগুড়াঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি বলেছেন, দেশের গ্রামকে শহরে পরিণত করতে জমির আইল না রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ করতে হবে। বগুড়া ও কুমিল্লায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে করে ফসলের উৎপাদন খরচ কম হয়েছে আবার ফসলের উৎপাদন বেড়েছে।
তাজুল ইসলাম বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন। বাঙালি হবে উন্নত ও গর্বিত জাতি। তাই তিনি স্বাধীনতার পর সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। সবাই যদি একসাথে কাজ না করতে পারি তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছা কঠিন। তাই লক্ষ্য পূরণে তিনি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। আইল তুলে দিয়ে যান্ত্রিকিকরণের মাধ্যমে সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষি জমি চাষাবাদ করে উন্নয়ন ছিল বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে কাজ করছে।
সমবায় মন্ত্রী মঙ্গলবার বিকালে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চকপাথালিয়া গ্রামে ধান কর্তনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন। সমবায় ভিত্তিক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কৃষি জমির আইল উঠিয়ে দিয়ে চাষাবাদের মাধ্যমে ধান কাটা হয়।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রেজাউল আহসানের সভাপতিত্বে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক আমিনুল ইসলামের (অতিরিক্ত সচিব) সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি এবং বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান। আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, কৃষক প্রতিনিধি কাশেম মন্ডল প্রমূখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল।
উল্লেখ্য বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চকপাথালিয়া গ্রামবাসীদের নিয়ে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে তাদের উদ্বুদ্ধকরণ ও স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে জমির আইল উঠিয়ে দিয়ে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ কাজ শুরু করা হয়। গবেষণা প্রকল্পটির পাইলটিং এলাকায় মোট ৭২টি প্লট ছিল। এই ৭২ প্লটের মোট আয়তন ৭৫৮ শতক। এর বাইরে ২২৪.৫ শতাংশ জমি রয়েছে যেখানে শুধু সবজি চাষাবাদ করা হয়। এর মধ্যে সর্বনিম্ন মাত্র ২.৫ শতকের কয়েকটি প্লট ও সর্বোচ্চ একটি ৬৬ শতক আয়তনের প্লট আছে।
পরবর্তীতে সেচের পানি ধরে রাখার সুবিধাসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ৭৮টি কৃষি জমির আইল তুলে দিয়ে ২৪ টি বড় কৃষি প্লট তৈরি করা হয়েছে। এই ৭৮টি কৃষি জমির মালিক হলেন মোট ৪৪ জন গ্রামবাসী। যারা চকপাথালিয়া ও পাশ্ববর্তী ফুলবাড়ি গ্রামে বসবাস করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে, কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলতে এবং তাদের সরেজমিনে ফলাফল দেখানোর জন্য আরডিএ নিজস্ব অর্থায়ানে তাদের ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে দেয়া, ধানের চারা সরবরাহ, মেশিন দিয়ে ধানের চারা লাগানো, মেশিন দিয়ে আগাছা নিড়ানো এবং মেশিন দিয়ে ধান কাটা-মাড়াই ও ঝাড়াই এর কাজে সহযোগিতা করছে। এতে কৃষি শ্রমিকের খরচ হ্রাস পেয়েছে এবং উৎপাদন বেশি হয়েছে বলে কৃষকরা জানান।