বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল স্থগিত করা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধীদল বিএনপি পরস্পরকে দোষারোপ করছে যা দুই দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন ছাত্রদল তারা নিজেদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের সম্মেলন বন্ধ করেছে।এখানে আওয়ামী লীগের দোষ কি?
আজ শনিবার দুপরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক আলেচনাসভার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ছাত্রদলের জাতীয় কাউন্সিল স্থগিত বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন ‘ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তারা মামলা করে সম্মেলন বন্ধ করেছে। এখানেও শেখ হাসিনার দোষ, আওয়ামী লীগের দোষ । যত দোষ নন্দ ঘোষ । এখানে আওয়ামী লীগের দোষ কি?’।
কাদের বলেন বিএনপির যে সংকট সেটা তাদের নিজেদের অভ্যন্তরিণ সংকট। তাদের অভ্যন্তরিণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ।
বিএনপি নেতারা জানান ছাত্রদলের সাবেক সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহ নিম্ন আদালতে মামলা করায় আদালত গত ১২ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ছাত্রদলের কাউন্সিলের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।
আজ শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৭ বছর পর কাউন্সিলররা প্রত্যক্ষ ভোটে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করার কথা। ১৯৯২ সালে ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে ছাত্রদলের কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীর গতকাল শুক্রবার রাতে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন ‘তারা (আওয়ামী লীগ) চান না বাংলাদেশে একটা ন্যূনতম গনতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। খুবই দুঃখজনকভাবে তারা ব্যবহার করছে আদালতকে, যেটা কখনই কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এর জন্য শুভ নয়’।
তিনি বলেন যখন ‘ছাত্রদল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাউন্সিলের মাধ্যমে পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে যাচ্ছে তখন এটাকে স্থগিত করার মানেটা কি? আজকে আপনি একটা পলিটিক্যাল পার্টিকে বন্ধ করে দিচ্ছেন, এটা নজিরবিহীন’।