বাংলা হেডলাইনস: স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফের কাছে নোঙর করা হান্টাভাইরাস-আক্রান্ত ডাচ ‘এমভি হন্দিয়াস’ প্রমোদতরী থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে স্পেনসহ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দেশ।
প্রথমেই ১৪ জন স্পেনীয় নাগরিককে তরীটি থেকে নামানো হয়েছে। তাদেরকে ভাড়া করা একটি ফ্লাইটে করে টেনেরিফ থেকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে নিয়ে একটি সামরিক হাসপাতলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
ফ্রান্সও একইভাবে তাদের নাগরিকদের রাজধানী প্যারিসে নিয়ে গেছে এবং অন্যান্য দেশগুলোও একই কাজ করছে। যুক্তরাজ্যও তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে ফ্লাইট প্রস্তুত রেখেছে।
তুর্কি, আইরিশ এবং মার্কিন নাগরিকদেরও রোববারেই প্রমোদতরী থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বশেষ ফ্লাইটটি সোমবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান ‘স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে’ এবং প্রমোদতরীর সব যাত্রীর দেহে এখনও হান্টাভাইরাসের কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি।
প্রথম উদ্ধার অভিযানের সময় রোববার একটি লম্বা ক্যামেরার লেন্সে দেখা যায়, যাত্রীরা জাহাজের ডেকে বা জানালার কাছে সাদা মেডিকেল মাস্ক পরে ঘোরাঘুরি করছেন।
প্রথম উদ্ধারকারী নৌকায় বেশ কয়েকজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসেছিলেন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিও ও ছবি তুলছিলেন, যেখানে সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে দেখা করেন।
জাতীয়তা অনুযায়ী তাদেরকে দলে ভাগ করা হয়েছে এবং ছোট নৌকায় করে উপকূলে আনা হচ্ছে। স্থানীয় বিমানবন্দরে ভাড়া করা উড়োজাহাজ প্রস্তুত রয়েছে, যাতে তাদেরকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়।
নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা একটি উড়োজাহাজ ২৭ জনকে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে আছে বেলজিয়ান, গ্রিক, জার্মান এবং আর্জেন্টিনার নাগরিক।
গত মার্চ মাসে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল প্রমোদতরী ‘এমভি হন্দিয়াস’।
অ্যান্টার্কটিকা ও অন্যান্য স্থানে বিরতি দিয়ে এটি আফ্রিকার পশ্চিমে কেপ ভার্দে জলসীমায় পৌঁছানোর পর যাত্রীদের মধ্যে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের খবরটি সামনে আসে।
এখন পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তরীটিতে প্রথম এক যাত্রীর মৃত্যুর একমাস পর, রোববার ভোরে এটি গ্রানাদিলা বন্দরে প্রবেশ করে।
সূর্য ওঠার পর দেখা যায় প্রমোদতরীটি উপকূলের কাছাকাছি নোঙর করেছে। সামরিক পুলিশের নৌযান টহল দিচ্ছে এবং ১০০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ক্রুকে নামতে সাহায্য করার জন্য উপকূলে কাজ চলছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে একটি চিকিৎসক দল সবার দেহে ভাইরাসের কোনও লক্ষণ আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে জাহাজে ওঠে।
টেনেরিফ ছেড়ে আসা প্রমোদতরীর যাত্রীদেরকে সেলফ-আইসোলেট থাকতে হচ্ছে। কারণ, ভাইরাসটি তাদের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে সেই আশঙ্কার কারণে। ভাইরাসটির সুপ্তিকাল ৯ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে।
বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রমোদতরীর যাত্রীদের ৪২ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ডব্লিউএইচও প্রধান উদ্বিগ্ন স্প্যানিশদের অনুরোধ করেছেন যেন তারা উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে নিয়োজিতদের ওপর আস্থা রাখেন।
তিনি স্বীকার করেছেন, “আপনাদের উদ্বেগ যৌক্তিক, কারণ কোভিডের অভিজ্ঞতার ট্রমা এখনও আমাদের মনে আছে।”
তবে তিনি বলেন, “ভাইরাসটি যেভাবে কাজ করে এবং যে কোনো সমস্যা এড়াতে স্পেন সরকার যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে, সেকারণে এখনই এটি ব্যাপকভাবে ছড়ানোর ঝুঁকি কম।” সূত্র: গণমাধ্যম