শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
লং মার্চসহ ঢাকায় মহসমাবেশের ঘোষণা ১১-দলীয় জোটের জুলাইয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষোভ প্রকাশ জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত, উত্তেজনা বিভেদ চলতে থাকলে হাসিনা প্যারাসুট নিয়ে নামার চেষ্টা করবে: জামায়াতকে রিজভী ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি : জামায়াত আমির দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন বাতিলে কাজ করছে সরকার তারেক রহমানকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে: জামায়াত আমির কিছুই বদলায়নি ।। যারা ঘুষ খেত, তারা এখনো ফন্দি-ফিকির করছে: মির্জা ফখরুল স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাখতে চায় জামায়াত

লং মার্চসহ ঢাকায় মহসমাবেশের ঘোষণা ১১-দলীয় জোটের

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্য।

লং মার্চ কর্মসূচি শেষে নভেম্বরে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে তারা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার পুরানা পল্টনের মুক্তাঙ্গণে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জোটের শীর্ষনেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

রাষ্ট্রসংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকর করার জন্য সরকার ইতোমধ্যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে। তবে সেই কমিটি প্রতিনিধি দেয়নি বিরোধ জোট। তারা সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে এই কমিটি গঠনের দিন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে কয়েক মাস ধরেই জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে।

এদিকে সম্প্রতি সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। জামায়াতের দাবি সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের যে সংকট তা সরকারের সৃষ্ট। সরকার গ্যাসের দাম বাড়াতেই এই সংকট সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া জনভোগান্তি নিরসনের দাবিতে আরো কয়েকটি দাবি তুলেছে জামায়াত জোট। এসব দাবি আদায়ে তারা যে কর্মসূচি দিয়েছে, তাতে রয়েছে-আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ; ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ; ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা লংমার্চ; ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট লংমার্চ (রেলপথে) এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ, তেল, গ্যাস বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণ করে কমিয়ে আনা, জনভোগান্তি নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, খুনিদের বিচার নিশ্চিত, সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের বিচার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য আন্দোলনে নেমেছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “ইতোমধ্যে ১১ দল অনেকগুলো কর্মসূচি পালন করেছে। নতুন ঘোষিত লংমার্চ জনগণের দাবি আদায়ের জন্য। অতীতের মতো যেন বাধা দেওয়া না হয়। বাধা দিলে, লংমার্চ দ্বিগুণ গতিতে গন্তব্যে পৌঁছবে।” ‘জ্বালানি তেল, গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে লাগামহীন উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি নেতা অলি আহমদ, বিরোধীদলীয় চিফহুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষনেতা শফিকুর রহমান ১১ দফা দাবি পাঠ করেন।

তিনি বলেন, “জনগণের ১১ দফা জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আমরা আজ এখানে এসেছি। এই ১১ দফা কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য।

“আমরা অধিকারের পক্ষে লড়াই করতে নেমেছি। আমরা জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়ব। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “যারা বিরোধীমতের প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করার জন্য গুলি চালিয়েছে, খুন করেছে, গুম করেছে, জুলুম-নির্যাতন করেছে, ঘরছাড়া করেছে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, জীবিত থাকতে আমরা তাদের আর এদেশে আস্ফালন করার সুযোগ দেব না।”

সচিবালয়ের দিকে অংশগ্রহণকারীদের রওয়ানা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “সচিবালয়ে যারা বসে আছেন-মন্ত্রী, এমপি, সচিব তাদের জনগণের কথা শুনতে হবে, মানতে হবে। সচিবালয় কোনো দলের নয়। সংসদে যেন আর মিথ্যা বিবৃতি না দেওয়া হয়।”

এরপর কর্মসূচি ঘোষণা করে সচিবালয়ের দিকে রওনা হন শফিকুর রহমানসহ জোটের নেতারা। তবে সচিবালয়ের ফটক পর্যন্ত পৌঁছানোর আগের তাদের আটকে দেওয়া হয়।

সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

জোটের দুইজন নেতা বলেছেন, মুক্তাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন সচিবালয়ে যোগাযোগ করা হয় বিরোধী জোটের তরফে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আজকে জনদুর্ভোগ লাঘবে ১১ দফা দিয়ে সরকারকে বার্তা দিয়েছি। মুক্তাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকবার প্রতিনিধি পাঠানোর কথা এসেছে। কিন্তু সময়ক্ষেপণ করলেও তারা কোনো প্রতিনিধি দল পাঠায়নি।”

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com