বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বসার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ‘পা কেটে নেওয়ার’ অভিযোগ জুলাই সনদ নিয়ে যারা বিভ্রান্ত করছে, তারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি: বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী

করোনায় মৃত্যু হার : বাংলাদেশ বনাম আমেরিকা, ইউরোপ

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২০
  • ১০৮৬ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: বর্তমানে করোনা নিয়ে বিশ্বময় যে নানান আলোচনা চলছে তার মধ্যে সবচাইতে বেশি আলোচিত যে কথাগুলো আমাদের মনে পড়ছে তা হলো, কবে এর ভ্যাকসিন আসবে কবে আসবে কার্যকর ঔষধ, কেন এতো মানুষ মারা যাচ্ছে আমেরিকায় , ইতালি, স্পেন এ আবার কেনই বা কোনো কোনো দেশে এর বিস্তার এতো কম , কবে পরিত্রাণ মিলবে এই অস্বস্তি কর অবস্থা থেকে ইত্যাদি ! এ ছাড়াও করোনা সম্পর্কে নানান জনের নানান কৌতূহল মনের মাঝে উঁকি দিচ্ছে অহর্নিশি | এর অবশ্য সঙ্গত কারণ ও আছে !

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার এই যুগে সংবাদ এখন সহজ লভ্য ! আর সেখানেই হয়েছে কাল| কোন খবর টা বিশ্বাসযোগ্য আর কোনটা অবিশ্বাস্য এই নিয়েও নানান মতান্তর এর সৃষ্টি হয়েছে !

বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটি দেশে করোনার বিস্তার যেমনটা হবার অনুমান ছিল প্রথম দিকে ঠিক সেই মাত্রায় তার বিস্তার লাভ ঘটেনি, এটা বলা চলে ! বিজ্ঞান সম্মত বা অনুমান সাপেক্ষ নানান কথা এ নিয়ে মাথায় আসে ! এর মধ্যে কিছু যৌক্তিক আর কিছু নেহায়েতই কথার কথা ! যেখানে আমেরিকাতে প্রতিদিন হাজার এর কাছ কাছি লোক মারাই যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশে করোনা মৃত্যু হার নিতান্ত নগন্য! স্বাভাবিক ভাবেই এর একটি সঙ্গত ব্যাখ্যা জানার জন্যে মন ব্যাকুল হতেই পারে !

বাংলাদেশে করোনা কেন্দ্রিক যে ধারণা ও মানসিকতা বিশেষ ভাবে প্রণিধানযোগ্য তার যদি একটি তালিকা করি তা হয়তো অনেকটা নিম্নরূপ হবে :

১) এই দেশের মানুষ ছোট বেলা থেকেই অনেক রোগশোক ও ভেজাল খাদ্য খেয়ে বড় হয়ে উঠে ফলে তাদের ইমিউনিটি অনেক বেশি তাই করোনা তাদের কিচ্ছুটি করতে পারে না

২) এটা পীর ফকির এর দেশ অতএব এখানে করোনা সুবিধা করতে পারবেনা |প্রতিদিন মানুষ ওযু .নামাজ পরে ফলে পার্সোনাল হাইজিন এমনিতেই ঠিক ঠাক থাকে|

৩) দেশের জলবায়ু করোনার মোটেই অনুকূল এ নয়! প্রবল আদ্রতা আর উচ্চ রৌদ্র তাপের ফলে করোনা মরে ভূত হয়ে যাবে

৪) রমজান মাস এসে গেছে , আশা করা যায় এই পবিত্র মাসের উপলক্ষে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে

৫) উহান এর লোক জন এখন আর করোনা কে ভয় পায় না তারা লেবু অদা প্রভৃতি দিয়ে বানানো গরম পানির ভাপ বা গরম পানি ৪/৫ বার ব্যবহার করে সহজেই করোনা কে দমন করে|

৬) করোনা মুসলমানদের কিছু করতে পারবে না

৭) থানকুনি পাতা বা কালো জিরার ব্যবহার এ করোনা মুক্ত হয়ে যায়

৮) মৃত ব্যাক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় তাই করোনায় মৃত লাশের ধারে কাছেও আসা যাবে না

৯) করোনা আক্রান্ত পরিবারকে একঘরে করে রাখতে হবে

১০) করোনা সম্পর্কে কিছুই না জেনে বিশেষ কোনো মন্তব্য করে ফেলা এবং সেই মন্তব্যের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নেয়া

একথা সত্যি আমাদের মানসপটে যাই থাকুক, করোনা কেবল বাংলাদেশ কেন সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশেই তেমন জুৎ করতে পারে নাই ! অথচ দক্ষিণ এশিয়া এই জগৎ সংসার এ সব চাইতে জনবহুল স্থান!

জন ঘনত্বের বিচারে দক্ষিণ এশিয়া পৃথিবীর মাত্র ৩ শতাংশ ভূমি আছে যাতে বসবাস করে জগতের ২১ শতাংশ মানুষ | কিন্তু করোনায় পৃথিবীতে মোট মৃত্যুর ১ শতাংশের কম মৃত্যু ঘটেছে সার্ক ভুক্ত দেশ গুলোর মধ্যে ! ভারত , পাকিস্থান ও বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের কম জন সংখ্যা এই ভাইরাস এ আক্রান্ত |

আর এইসব তথ্য উঠে এসেছে সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস এর তৈরী একটি সমীক্ষা রিপোর্ট থেকে যা সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক প্রকাশ করেছে |

এই ফলাফলের কারণ হিসেবে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক মনে করে এইসব দেশে যেহেতু অনেক কম করোনা টেস্ট করা হয়েছে তাই আক্রান্তের সংখ্যাও কম| নিঃস্বন্দেহে এটি একটি বড় যুক্তি ! তবে এটাও ঠিক যদি আমেরিকা , স্পেন বা ইতালির মতো মৃত্যু মিছিল শুরু হতো এইসব দেশে তাহলে কোনো মতেই আর টেস্ট এর দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যেত না |

দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন বা বিত্তহীন জনগোষ্ঠীর | জন্মের পর থেকেই রোগসৃষ্টিকারী বীজাণু তাদের নিত্য সঙ্গী ! না আছে জীবাণুমুক্ত পানি , না আছে ভেজালমুক্ত খাবার !

বায়ুদূষণ ,শব্দদূষণ, পানিদূষণের এই দেশ গুলোতে করোনা কেন থাবা বসাতে পারলো না ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়তো বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে যাবে |

লক্ষণীয় যে শ্রীলংকার মতো দেশে করোনার ঘটনা কিন্তু যত সামান্য| এদেশের লোকজন ভেষজ খাদ্য সামগ্রীর উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল ! ভেষজ চিকিৎসা , নানান গাছের শিকড় বাকড়, ফুলের মধু শ্রীলংকানদের নিত্য দিনের খাবার | দেশটিতে ২৬ এপ্রিল 2020 পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ০৭ , করোনা শনাক্ত ৪৬০ ।  পক্ষান্তরে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ১৪০ করোনা শনাক্ত ৪৯৯৮ | বলাই বাহুল্য এই সংখ্যা আমেরিকা , ইতালি বা স্পেন এর তুলনায় নগণ্য |

তাহলে এর পিছনে যে বিজ্ঞান কাজ করছে তা আমাদের কাছে এখনো অজানা | যে কারণ গুলো বিবেচনায় আসে প্রথমেই সেগুলো হতে পারে :

১) যেহেতু ভাইরাসটি নিজের রূপ পরিবর্তন করেছে (Mutation ) শতেক বার, হতে পারে দক্ষিণ এশিয়াতে ভাইরাসের সেই রূপটি (strain ) সব চাইতে দুর্বলতম (weakest strain)|

২) উচ্চ তাপমাত্রায় ভাইরাসটির বহিরাবন (Outer layer ) যা মূলত চর্বি আর আমিষ দিয়ে গঠিত তা ভেঙে যায় বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ! ফলে ভাইরাসটি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়ে ACE2 রিসেপ্টরে সংযোজিত হতে পারে না |

৩) উচ্চ মাত্রার আদ্রতা (Humidity ) ভাইরাস এর ট্রান্সমিশন এ প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে |

বলা বাহুল্য বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জলবায়ু উচ্চ তাপমাত্রা ও অতি আদ্রতা সম্পন্ন |

৪) বাংলাদেশের মানুষের শরীরে পূর্বে সংশ্লেষিত এন্টিবডি বিদ্যমান ছিল তাই করোনা সুবিধা করতে পারেনি| যুক্তি হিসেবে বলা যায় এই দেশের মানুষ প্রতিবছর ডেঙ্গি , রুবুলা প্রভৃতি ভাইরাস কে জয় করে বেঁচে আছে |ফলে এদেশের মানুষের শরীরে বিভিন্ন ভাইরাসের এন্টিবডি রক্তে সঞ্চালমান যা তাদের রক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করছে |

এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় আদা , রসুন , কালোজিরা প্রভৃতির বহুল ব্যাবহার এই অঞ্চলের জনগণের ইমিউনিটি কে সুরক্ষা দিয়েছে |

৫) এ দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস মূলত সবুজ শাক সবজি নির্ভর! এই সবুজ শাকসবজির অধিকাংশই দেশে উৎপাদিত এবং এগুলো রেফ্রিজারেটেড না হওয়ায় অধিক মাত্রায় পুষ্টিকর !

৬) এ দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সরাসরি রোদ্রতাপে এক্সপোসড হয়ে থাকে , সেটাও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় একটি অনন্য ফ্যাক্টর হতে পারে! রোদ্রতাপে দেহাভ্যন্তরে মেলানিন ও ভিটামিন D, সিনথেসিস হয়ে থাকে |

৭) সাধারণ মানুষের মনোবল , ধর্ম নির্ভরতা, আত্মবিশ্বাস মানুষ কে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে এই রোগ মোকাবেলায় |

৮)দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত জনগোষ্ঠীতেই এমন কোনো জেনেটিক ফ্যাক্টর বিদ্যমান যা এই রোগের মরণ ছোবল থেকে সাধারণ জনগণ কে বাঁচিয়েছে |

এই সমস্ত যুক্তিই কল্পনা নির্ভর | এর বাইরেও এক বা একাধিক কারণ থাকতে পারে | এমন হতে পারে যে এই কারণগুলোর একটিও সত্যি নয় নুতন কোনো কারণ এর পিছনে দায়ী|

লেখক: অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

বাংলাহেডলাইনস: এটা লেখকের নিজের মত। বাংলাহেডলাইনস এর মত প্রতিফলিত করে না।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com