বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার কাহালুতে এসএম শাহরিয়ার (৪৮) নামে এক এনজিও কর্মীকে মাথায় আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজের দুদিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার দামাই গ্রামে আমজাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাড়ির তালাবদ্ধ ঘরে তার পঁচন ধরা লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ দরজার তালা ভেঙে চট দিয়ে ঢেকে রাখা লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর বাড়ির লোকজন দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। কাহালু থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহমুদ হাসান এর সত্যতা নিশ্চিত করলেও হত্যার কারণ বলতে পারেননি।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানান, নিহত এসএম শাহরিয়ার ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার হামদানপুর গ্রামের মৃত মনিরুদ্দিন সরদারের ছেলে। তিনি‘উদ্দীপন’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার বগুড়ার কাহালু শাখার এফপিও পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্ত্রী, আট বছরের মেয়ে ও চার বছরের ছেলেকে নিয়ে কাহালুর মহিলা কলেজ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে তিনি অফিস থেকে কিস্তি আদায় করতে কাহালুর শিকড় গ্রামে যান। দুপুরে সহকর্মী শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ হন। বিষয়টি কাহালু থানায় অবহিত করা হয়। কাহালু থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহমুদ হাসান জানান, দামাই গ্রামে মিলু হাজীর বাড়িতে আমজাদ হোসেন ও তার ছেলে রাজু পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন।
বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে ওই বাড়ি থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। গ্রামবাসীরা টের পেয়ে দেখেন বাড়ির প্রধান দরজায় তালা। খবর পেয়ে তালা ভেঙে ওই বাড়িতে ঢুকলে একটি ঘরে চট দিয়ে ঢাকা লাশ দেখতে পাওয়া যায়। পরে তালা ভেঙে ঘরে নিখোঁজ এনজিও কর্মী এসএম শাহরিয়ার পঁচন ধরা লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, ভারী কিছুর আঘাতে মাথা থেতলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির ভাড়াটিয়ে আমজাদ, তার ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তার ধারনা, এরাই ওই এনজিও কর্মীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকান্ডের কারণ জানা সম্ভব নয়নি। তবে গ্রামবাসীদের কেউ কেউ বলছেন, ঋণ বা নারী সংক্রান্ত কোন ঘটনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। রাত সাড়ে ৮টায় এ খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।