বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলষ্টেশন এলাকায় সম্প্রতি রেল দুর্ঘটনাস্থলে একাধিক তদন্ত কমিটি পরিদর্শন করে রেল স্টেশনের কর্মচারী-কর্মকর্তা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের গণস্বাক্ষর নিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে ট্রেন দুর্ঘটনার কোন তথ্য প্রকাশ করেননি তদন্ত কমিটিগুলো।
সোমবার সকাল থেকে দিনভর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম রহমান, জিআরপি থানার ওসি আকতার হোসেন ও পাকশী রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী শিপন। এ তদন্ত কমিটির প্রধান ফিরোজ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কাজ শুরু করেছি। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) রাজশাহীর চীফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি বনিক, প্রধান প্রকৌশলী আল ফাত্তা মাসউদুর রহমান ও চীফ সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার সুশীল কুমার হালদার। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এ কমিটির তদন্ত কাজও শুরু হয়েছে। এসব তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদস্যগণ ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন, বগি ও ইঞ্জিন ঘুরে দেখেন এবং স্টেশনের কর্মকর্তা ও প্রতক্ষদর্শীদের গণস্বাক্ষর গ্রহণ করেন। তদন্ত কমিটি গুলোর পক্ষ থেকে তদন্ত স্বার্থে কোন তথ্য প্রকাশ করেননি। এ তদন্ত কমিটিগুলো এখনও উল্লাপাড়া রেলষ্টেশন এলাকায় অবস্থান করছেন এবং তদন্ত কাজ এখনওএ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলষ্টেশন এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরগামী ৭৭১ নং আন্তনগর রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ইঞ্জিনসহ ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগিতে আগুন ধরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।