বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ায় গত দু’দিনে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হঠাৎ শীত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্টেশনে, টার্মিনাল, রোড ডিভাইডারসহ বিভিন্ন খোলা স্থানে আশ্রয় নেয়া জনগণের দূর্ভোগ বেড়েছে। অনেকে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। সরকারি বা বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি। বগুড়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ১৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১৫ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়।
পরদিন ১৮ ডিসেম্বর বুধবার থেকে হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ওইদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১৩.৩ ডিগ্রি এবং বৃহস্পতিবার সর্বনি¤œ (সকাল ৯টায়) ১১.৫ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ (সন্ধ্যা ৬টায়) ২১.৮ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারি আবহাওয়াবিদ সজিব হোসাইন জানান, উত্তর ও পশ্চিম থেকে ঠান্ডা বাতাস ও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলে তাকে শৈতপ্রবাহ বলে। সে হিসেবে বগুড়ায় শৈতপ্রবাহ বলা যাবেনা। এখানে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী ২১ ডিসেম্বর এ পরিস্থিতির উন্নতি হবার সম্ভবনা রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বগুড়া শহর, শহরতলী ও বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ছিন্নমুল বিশেষ করে স্টেশন, টার্মিনাল, খোলা মাঠ ও রোড ডিভাইডারে আশ্রয় নেয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রচন্ড শীতে তারা কষ্ট পাচ্ছেন। বগুড়া রেল স্টেশনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে আশ্রয় নেয়া গাবতলীর নাড়–য়ামালার ভিক্ষুক আলফাজ হোসেন (৫৫), ভেলুরপাড়ার ভবঘুরে মিলন হোসেন (৩৬), পথশিশু শহিদুল (১৪) প্রমুখ জানান, তাদের বাড়িঘর নেই। যেখানে সুযোগ পান সেখানেই রাত কাটিয়ে দেন। বর্তমানে বগুড়া স্টেশনের আশপাশে থাকেন। তারা জানান, হঠাৎ শীত বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। রিক্সা চালক সারিয়াকান্দির মোসাদ্দেক হোসেন জানান, তিনি দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরে রিকশা চালান। দু’দিন ধরে শীত বৃদ্ধি পাওয়ায় রাতে রিকশা চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের হকার্স মার্কেট, সাতমাথাসহ বিভিন্ন স্থানে গরম কাপড় বিক্রি বেড়েছে। দোকানগুলোতে জনগণের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।