বাংলা হেডলাইনস মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে করোনা মোকাবেলায় মানবিক সহায়তায় এগিযে এলেন শিশু সংগীত শিল্পী উর্মিলা কর্মকার কথা। উন্নতমানের হারমোনিয়াম চেঞ্জার কেনার জমানো টাকা দান করলেন করোনা মানবিক সহায়তা ফান্ডে।
রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শখের হারমোনিয়াম কেনার পাঁচ হাজার টাকা তুলে দিলেন জেলা প্রশাসক এস,এম ফেরদৌসের হাতে।
এসময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক সুদেব কুমার সাহা, কথার বাবা কৈলাশ কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।
কথা মানিকগঞ্জ এস,কে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী । নিয়মিত সংগীত চর্চা করছে সপ্তসূর সংগীত নিকেতনে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি সংগীত চর্চা করে আসছে।
গত তিন বছর ধরে শিশু শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করছে। চতুর্থ শ্রেনীতে পড়াকালীন শখ করে একটি উন্নতমানের ‘চেঞ্জার হারমোনিয়াম’ কেনার জন্য টাকা জমাতে থাকেন।
গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন স্টেইজ প্রোগ্রামে গান করে যে বকশিস কিংবা সম্মানী পেয়েছে তা সে জমিয়ে রেখেছে হারমোনিয়াম কেনার জন্য । জমানো টাকা গুনে দেখা যায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা হয়েছে। পুরো টাকা নিয়ে এগিয়ে এলেন করোনা মোকাবেলায় আর্তমানবতার সেবায়।
নিজের জমানো চেঞ্জার হারমোনিয়াম কেনার টাকা জমা দিলেন করোনা মোকাবেলায় মানবিক সহায়তার ফান্ডে।
কথা জানায়, জীবনে বেঁচে থাকলে হয়তো পরে শখের হারমোনিয়াম কিনতে পারবে। কিন্তু এই মুহূর্তে শখের হারমোনিয়ামের চেয়ে মানবিক সহায়তা বেশী প্রয়োজন।তাই করোনার প্রভাবে যেসব মানুষ অসহায় অবস্থায় রয়েছে তাদের সহায়তায় জমানো টাকা জেলা প্রশাসনের ফান্ডে জমা দিয়েছেন।
এতে সে বেজায় খুশি হয়েছে। সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছে। আর এই ভাল কাজের জন্য তার বাবা কৈলাশ কর্মকর্তার ও মা মানিকগঞ্জ জেলা হাসপতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স দীপা রানী কর্মকার তাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন বলে জানায়।
জেলা প্রশাসক এস, এম ফেরদৌস বলেন, ছোট শিশু কথার এই মানবিক সহায়তা প্রদান অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই ধরণের মানবিক গুনাবলী অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আর্তমানবতার সেবায় সমাজের বিত্তবানরাও এগিয়ে এলে করোনা সংকট মোকাবেলা সহজতর হবে।