বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর : গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা এলাকায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একটি স্কুলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আগুনে স্কুলটির বই, খাতা, আসবাবপত্র ও কয়েকটি ফ্যানসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রসহ তিনটি কক্ষ পুড়ে গেছে।
এ ঘটনায় কারা আগুন দিয়েছে সেটি তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
স্থানীয় হাজী ফজলুল হক প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে একই এলাকার জলপাইতলা মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাদের জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে এ আগুন দেওয়া হয়েছে কিনা খতিয়ে তা দেখছে পুলিশ।
ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে জলপাইতলা মডেল স্কুলে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলেন এলাকাবাসী।
আগুনে ওই স্কুলের আবসবাবপত্র ও বই-খাতাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এ ব্যাপারে হাজী ফজলুল হক প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মো. গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ফাঁসাতে নিজেরাই তাদের জলপাইতলা মডেল স্কুলেটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
অগ্নিকান্ডের আগে প্রতিপক্ষের লোকজন স্কুল থেকে তাদের সিসিটিভি ও আসবাবপত্র সরিয়ে নেয়।

এর আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আকবর আলী পালোয়ানের লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বানিয়ার চালা এলাকায় আমার ও ছোট ভাই মুজিবুর রহমানের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এ ব্যাপারে ২৩ এপ্রিল মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় জলপাইতলা মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল আলম ১০ নভেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
পরবর্তীতে মীমাংসার জন্য কয়েক দফা প্রস্তাব দেয়া হয়। মীমাংসা না হওয়ায় আগুন ধরিয়ে ফাঁসানোর অপচেষ্টা হচ্ছে ।
এদিকে অভিযুক্ত জলপাইতলা মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আকবর আলী পালোয়ানের স্বজনরা জানান, প্রতিবেশী মো. গিয়াসউদ্দিন এবং তার ভাই মুজিবুর রহমানের সঙ্গে জমি নিয়ে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
এসব বিরোধের জেরেই গিয়াস উদ্দিনের লোকজন স্কুলটিকে ধ্বংশ করে দিতে গত রাত ৩টার দিকে আগুন দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
অগ্নিকান্ডের ব্যাপারে জয়দেবপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে মারামারির ঘটনায় উভয়পক্ষ দুইটি মামলা করেছে। একটি মামলায় সম্প্রতি জলপাইতলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, স্কুলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকি ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।