সাজ্জাদুল তুহিন, বাংলা হেডলাইনস নওগাঁ: নওগাঁ সদর উপজেলার হাড়িয়াগাছি গ্রামে পরকীয়া করার সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন ছকু (৩৬) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বুধবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
তোফাজ্জল হোসেন উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের হাড়িয়াগাছি গ্রামের মোজাম্মেলের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রাতে তাকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই উজ্জ্বল হোসেন বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তোফাজ্জল হোসেন গ্রামের হাড়িয়াগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমএলএসএস পদে চাকরি করতেন। তার সঙ্গে একই গ্রামের দিলদার হোসেনের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক আছে বলে দিলদার ও তার পরিবারের লোকজন সন্দেহ করতেন।
এই সন্দেহে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তোফাজ্জলকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় দিলদার ও তার লোকজন। এরপর তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়।
পরে তারা তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে চুরির আভিযোগ এনে নওগাঁ সদর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয় এবং তাকে পরিবারের কাছে চিকিত্সার জন্য হস্তান্তর করে থানায় ফিরে যায়।
তোফাজ্জলের প্রথমে বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়। পরদিন বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
রাত ১২টার দিকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে তোফাজ্জলের মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে দিলদার হোসেন ও অন্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের বাড়িঘর এখন তালাবদ্ধ।
তোফাজ্জলের চাচাতো ভাই আব্দুল মান্নান বলেন, দিলদার ও তার লোকজন তোফাজ্জলকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গাছের সঙ্গে বেঁধে মারপিট করে। মরণাপন্ন হয়ে পড়লে তারা তোফাজ্জলকে চোর বলে প্রচার করতে থাকে।
নওগাঁ পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, কোনো অসামাজিক কার্যক্রম থাকলে সে ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া অপরাধ।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে তত্পরতা শুরু হয়েছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।